বিতর্কিত লাল কার্ডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে ফোলারিন বালোগান
বিতর্কিত লাল কার্ডে বিশ্বকাপ ইতিহাসে বালোগান

যুক্তরাষ্ট্র বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে পৌঁছেছে, কিন্তু ম্যাচের আলোচনা এখন ফোলারিন বালোগানের বিতর্কিত লাল কার্ডকে ঘিরে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেন বালোগান, যা চলতি বিশ্বকাপে তার তৃতীয় গোল। তবে ম্যাচের ৬৪তম মিনিটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের সাথে বল দখলের লড়াইয়ে পা লেগে যায় প্রতিপক্ষের গোড়ালিতে। রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে গেলেও ভিএআরের ইশারায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস মনিটর দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

বিরল ইতিহাসের পাতায় বালোগান

এই লাল কার্ডের ফলে বালোগান বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল করার পর লাল কার্ড দেখা খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম লেখান। এর আগে ১৯৬২ বিশ্বকাপে চিলির বিপক্ষে সেমিফাইনালে জোড়া গোল করার পর লাল কার্ড দেখেন ব্রাজিলের গারিঞ্চা। ২০০২ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের ৭ মিনিট পর মাঠ ছাড়েন রোনালদিনিও। আর ২০০৬ ফাইনালে ইতালির বিপক্ষে গোল করার পর অতিরিক্ত সময়ে মার্কো মাতেরাজ্জিকে ঢুঁস মেরে লাল কার্ড দেখেন জিনেদিন জিদান। বালোগান চলতি বিশ্বকাপে লাল কার্ড দেখা ১২তম খেলোয়াড়।

কোচ ও ধারাভাষ্যকারদের ক্ষোভ

ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান কোচ মরিসিও পচেত্তিনো সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'এটি কোনোভাবেই লাল কার্ড ছিল না। টিভিতে দেখে স্পষ্ট বোঝা গেছে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ইচ্ছাকৃতভাবে মাড়িয়ে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না। ফুটবলে এটি একটি সাধারণ ঘটনা। এটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে। আর এই কারণেই আমার কাছে মনে হয়েছে এটি কখনোই লাল কার্ড হতে পারে না।' ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, সরাসরি লাল কার্ডের পর পরবর্তী ম্যাচে নিষেধাজ্ঞা স্বয়ংক্রিয় এবং আপিলের সুযোগ নেই। ফলে নকআউটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বালোগানকে ছাড়াই নামতে হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিবিসির স্টুডিওতে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড লিওনেল মেসির প্রসঙ্গ টেনে নিয়মের দ্বিমুখী নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, 'আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসির একই ধরনের ট্যাকল ভিএআর খতিয়ে দেখেনি, কিন্তু বালোগানের ক্ষেত্রে রেফারি মনিটর দেখে সরাসরি লাল কার্ড দিয়েছেন। এই আলাদা নিয়ম খেলোয়াড়, কোচ ও সমর্থকদের হতাশ করে।' সাবেক ইংল্যান্ড নারী ফুটবলারের সু স্মিথ বলেন, 'রিপ্লেতে ফ্রেম আটকে রাখলে লাল কার্ড মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে সিদ্ধান্তটি বড্ড কঠোর।' যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফরোয়ার্ড ক্লিন্ট ডেম্পসি বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্রকে বড্ড বেশি শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বালোগান এমন অপরাধ করেনি, যার জন্য সরাসরি লাল কার্ড দেখাতে হবে। এত বড় ম্যাচে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া জরুরি।'