সাফ জয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের বিরল সংবর্ধনা: হাতিরঝিলে উচ্ছ্বাস ও স্বপ্নের বার্তা
সাফ জয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের হাতিরঝিলে সংবর্ধনা

সাফ জয়ী অনূর্ধ্ব-২০ দলের হাতিরঝিলে স্মরণীয় সংবর্ধনা

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করে দেশে ফেরা বাংলাদেশ দল এক অনন্য অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। শনিবার রাত পৌঁনে ১০টায় হাতিরঝিলের এম্ফিথিয়েটারে পৌঁছে তারা বিরল এক সংবর্ধনা পেয়েছে। ছাদখোলা বাসে করে বিমানবন্দর থেকে আসার পথে রাস্তায় সমর্থকদের উচ্ছ্বসিত অভিনন্দনে সাড়া দিয়ে দলটি এই আয়োজনে অংশ নেয়।

ট্রফি উৎসর্গ ও জাতীয় সংগীতের মাহেন্দ্রক্ষণ

কোচ মার্ক কক্সের সঙ্গে ট্রফি উঁচিয়ে ধরে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীসহ অন্যান্য খেলোয়াড়দের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক অভ্যর্থনা জানান। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও সহ-সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদীসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। ‘চ্যাম্পিয়ন্স’ লেখার পেছনে সাজানো মঞ্চের সামনের ডেস্কে রাখা হয় সোনালি রঙের ট্রফিটি। একটু পরই বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত—আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি

মঞ্চের স্ক্রিনে ফুটে ওঠে মালদ্বীপে বাংলাদেশের প্রতিটি স্মরণীয় মুহূর্ত। রোনানদের গোলের উদযাপন, শিরোপা জয়ের উল্লাস, মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দর্শকদের উচ্ছ্বাস—সবকিছুই জীবন্ত হয়ে ওঠে। এসময় ট্রফি সমর্থকদের উৎসর্গ করেন অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী, ‘এই ট্রফি আপনাদের জন্য। শুধু আপনাদের জন্য।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচ মার্ক কক্সের বাংলায় আবেগ ও প্রতিশ্রুতি

কোচ মার্ক কক্স মঞ্চজুড়ে হাঁটতে হাঁটতে নিজের অনুভূতি জানান বাংলায়, ‘আমার হৃদয় বাঙালি। সবাইকে আসসালামু আলাইকুম। আমার হৃদয় বাঙালি, বাংলাদেশ। বাফুফে সভাপতি আপনাকে ধন্যবাদ, সুন্দর এই আয়োজনের জন্য। আমি আমার স্টাফদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, এই লোকগুলো না থাকলে এই সাফল্য আসত না। প্রতিটি ছেলে তাদের সবটুকু দিয়ে বাংলাদেশের জন্য খেলেছে। ১৯৭১ সালের স্পিরিট… যেটা আপনাদের ইতিহাস…সেটা দেখিয়েছে। আমরা এই সাফল্য আবারও নিয়ে আসব।’

যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দুই ভাই রোনান ও ডেকলান সুলিভানও নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এই অনুষ্ঠানে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাফুফে সভাপতির প্রশংসা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন

খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসানো তাবিথ আউয়াল বলেছেন, ‘আমাদের চ্যাম্পিয়ন ভাইয়েরা ও চ্যাম্পিয়ন কোচিং স্টাফ সবাইকে সালাম। শুরুতেই বলতে চাই, আমাদের মাঠে ১১ জন খেলোয়াড়ের সঙ্গে ১২তম খেলোয়াড় ছিলেন আপনারা, দর্শকরা। প্রতিটি মুহূর্তে মালদ্বীপ থেকে আমাদের মনে হয়নি… আমরা দেশে নেই। থাইল্যান্ডে, অস্ট্রেলিয়ায়, মালদ্বীপে—সব জায়গাতেই আপনারা একটা বার্তা দিয়েছেন, বাংলাদেশ আর থামবে না। বাংলাদেশ আর পিছু নামবে না। ধন্যবাদ সব দর্শকদের।’

স্বপ্নের কথা শোনাতে গিয়ে বাফুফে সভাপতি বলেন, ‘বার্তাটা খুব পরিষ্কার। এটা সবে শুরু। ফাইনাল জিতেছি, ট্রফিটা বাংলাদেশে এসেছে, কিন্তু আরও ট্রফি আসার যে সংস্কৃতি আমরা দেখতে চাই, তার যাত্রা শুরু হচ্ছে। অতীতে আমাদের নারী দল বাছাই পেরিয়ে দেখিয়েছে, আমরা এশিয়ান কাপে খেলব। আজকে আমরা যুব দলকে দেখছি… আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল।’

এরপর তিনি বলেন, ‘আমি বারবার বলে আসছি, আমাদের অনেক ঘাটতি আছে, কিন্তু ওরা যেভাবে খেলছে, যে পর্যায়ে খেলছে এবং দেশকে প্রতিদান দিচ্ছে, সে তুলনায় আমরা কিন্তু তাদের রিসোর্স দেওয়ার ধারে কাছেও নেই। আজও যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। যদি মন্ত্রণালয় এগিয়ে আসে, পৃষ্ঠপোষকরা এগিয়ে আসে, তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে খেলোয়াড়দের জন্য ভালো সুবিধা তৈরি করতে পারব। তখনই কেবল আমরা ফুটবলারদের কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা করতে পারব।’

বক্তব্যের শেষ দিকে এসে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘উই আর দ্য…’, সমবেত দর্শক-ফুটবলপ্রেমীরা সমস্বরে চিৎকার করে ওঠেন, ‘চ্যাম্পিয়ন।’

এক স্মৃতিময় রাতের সমাপ্তি

আনন্দের রোশনাইয়ের মাঝে রোনান-মিঠুদের কাছে রাতটি হয়ে রইলো দারুণ এক স্মৃতিময়। এই সংবর্ধনা কেবল একটি ট্রফি জয় নয়, বরং বাংলাদেশ ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবাহী এক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। দলটি তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে সমর্থকদের হৃদয় জয় করেছে, যা আগামী দিনের সাফল্যের পথ সুগম করবে।