বিশ্বকাপ ফুটবলের দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা ছয়টি দেশ
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ প্রতিটি দেশের জন্য গর্বের বিষয়। তবে কিছু দেশ আছে যারা একবার বা কয়েকবার অংশ নিলেও দীর্ঘদিন ধরে এই আসর থেকে দূরে রয়েছে। আজ আমরা জানবো এমন ছয়টি দেশের গল্প যারা বিশ্বকাপে ফিরতে অপেক্ষা করছে বহু বছর ধরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত: একবারের অভিজ্ঞতা
১৯৯০ সালে প্রথম ও একমাত্রবার বিশ্বকাপে অংশ নেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি সেই আসরে অংশ নিলেও পরবর্তী তিন দশক ধরে আর বাছাইপর্ব উতরাতে পারেনি। তাদের ফুটবল উন্নয়নে নানা উদ্যোগ থাকলেও বিশ্বসেরাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।
হাঙ্গেরি: গৌরবময় অতীত, বর্তমানের সংগ্রাম
হাঙ্গেরির ফুটবল ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। দুবার রানার্সআপ এবং তিনবার কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট হওয়ার কৃতিত্ব আছে তাদের। মোট ৯বার বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ১৯৮৬ সালের পর থেকে তারা আর টুর্নামেন্টে ফিরতে পারেনি। ইউরোপের কঠিন বাছাইপর্বে টিকে থাকাই তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এল সালভাদর: মধ্য আমেরিকার প্রতিনিধি
মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর বিশ্বকাপে দুবার অংশ নিয়েছে। ১৯৭০ সালের পর ১৯৮২ সালে আবার খেলার সুযোগ পেলেও এরপর থেকে তারা আর বিশ্বসেরাদের টুর্নামেন্টে জায়গা করতে পারেনি। অঞ্চলীয় প্রতিযোগিতায় ভালো করলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে সাফল্য এখনো দূরে।
কুয়েত: এক আসরের স্মৃতি
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত ১৯৮২ সালে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছে। গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর দেশটি আর কখনো বিশ্বকাপে ফিরতে পারেনি। তেলসমৃদ্ধ এই দেশটি ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করলেও আন্তর্জাতিক সাফল্য এখনো অধরাই রয়ে গেছে।
ইসরায়েল: দীর্ঘ ১৪ আসরের অপেক্ষা
১৯৭০ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে অংশ নিয়েছিল ইসরায়েল। এরপর টানা ১৪টি আসর ধরে তারা শুধু দর্শক হিসেবে থাকতে বাধ্য হয়েছে। রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দেশটি ফুটবলে উন্নতি করতে চাইছে, কিন্তু বিশ্বকাপে ফেরার পথ এখনো কঠিন।
কিউবা: ৮৮ বছরের বিরতি
১৯৩৮ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছিল কিউবা। ক্যারিবীয় অঞ্চলের এই দেশটির জন্য ৮৮ বছর পেরিয়ে গেছে বিশ্বকাপে অনুপস্থিতি থেকে। অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সমস্যা সত্ত্বেও কিউবার ফুটবলপ্রেমীরা আশা রাখে একদিন আবার বিশ্বমঞ্চে ফিরবে তাদের দল।
কোন দেশ কবে ফিরবে?
এই ছয়টি দেশের বিশ্বকাপে ফেরার সম্ভাবনা নির্ভর করে বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর:
- ফুটবল অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন
- তরুণ প্রতিভা আবিষ্কার ও লালন
- অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও স্পনসরশিপ
- বাছাইপর্বের গ্রুপিং ও প্রতিপক্ষের শক্তি
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমর্থন
বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ ও নতুন ফরম্যাট কিছু দেশের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব ফুটবলে টিকে থাকা সহজ কাজ নয়। এই দেশগুলোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও অধ্যবসায়ের উপর।



