২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির খেলার স্বপ্ন: ইরানের অনিশ্চয়তায় নতুন সম্ভাবনা
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলে একটি শক্তিশালী অবস্থান বজায় রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে। ২০১৮, ২০২২ এবং ২০২৬— টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারায় দেশজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে গভীর হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। প্লে-অফের শেষ ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে পরাজয়ের পর ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার আশা প্রায় শেষই হয়ে যায় ইতালির।
হতাশার মধ্যে নতুন সম্ভাবনার আলো
এই হতাশার মধ্যেই হঠাৎ করে একটি নতুন সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে, যদিও সেটি এখনো খুবই ক্ষীণ এবং অনিশ্চিত। এই সম্ভাবনার পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি। জানা গেছে, ইরান জাতীয় দল ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দৃঢ়ভাবে বলেছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ইরান বিশ্বকাপে খেলবে এবং তাদের ম্যাচগুলোও যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই সামনে এসেছে ফিফার একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।
ফিফার নিয়ম ও ইতালির সুযোগ
ফিফার নীতিমালার ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের পরিবর্তে অন্য দলকে ডাকা যায়। সাধারণত প্লে-অফের রানারআপ বা একই অঞ্চলের সর্বোচ্চ র্যাংকিংধারী দল এই সুযোগটি পায়। এই হিসেবে ইরান আসন্ন বিশ্বকাপে না খেললে এশিয়া থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এগিয়ে থাকতে পারে, কারণ তারা প্লে-অফে উঠেছিল, যদিও পরবর্তীতে ইরাকের কাছে হেরে যায়।
তবে এখানেই শেষ নয়। ফিফা চাইলে ভিন্ন সিদ্ধান্তও নিতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশ্ব র্যাংকিং বিবেচনায় ইতালির বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। ইরাক দলের সহকারী কোচ রেনে মিউলেনস্টিন জানিয়েছেন, এএফসির নিয়ম অনুযায়ী ইরানের জায়গায় ইরাকের যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা
তিনি এটাও উল্লেখ করেন, ফিফা চাইলে সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ের কোনো দলকে সরাসরি ডেকে সুযোগ দিতে পারে— আর সেই তালিকায় বড় নাম হতে পারে ইতালি। তবে বাস্তবতা হলো, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ নয়। ইতালিকে সুযোগ দিলে ইউরোপ থেকে অতিরিক্ত একটি দল খেলবে, যা অন্য অঞ্চলের দলগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতালির খেলা এখনো পুরোপুরি অনিশ্চিত। বিশেষ কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া হলে তাদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। আপাতত ইতালি সমর্থকদের নজর ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। ফুটবল বিশ্ব এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই অপেক্ষা করছে, চারবারের চ্যাম্পিয়ন ইতালি আবারও বিশ্বকাপ মঞ্চে ফিরবে কিনা।



