ফিলিস্তিনের নিষিদ্ধ দাবি নাকচ, ইসরাইলি ফুটবল সংস্থাকে জরিমানা করল ফিফা
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (পিএফএ) ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ) নিষিদ্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে সংস্থাটি ইসরাইলি ফুটবল কর্তৃপক্ষকে বৈষম্য ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১ লাখ ৫০ হাজার সুইস ফ্রাঁ (প্রায় আড়াই কোটি টাকা) জরিমানা করেছে।
দীর্ঘদিনের দাবি ও ফিফার সিদ্ধান্ত
ফিলিস্তিন দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশেষ করে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি এলাকা থেকে ফুটবলে সম্পৃক্ততার কারণে ফিফার কাছে ইসরাইলকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিল ফিলিস্তিন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ফিফা পিএফএর দুটি পৃথক আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়।
এর মধ্যে একটি আবেদন ছিল পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিতে অবস্থিত ক্লাবগুলোকে জাতীয় লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি। ফিফা জানায়, পশ্চিম তীরের চূড়ান্ত আইনি অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনে জটিল ও অনির্ধারিত থাকায় এই ইস্যুতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। গভর্ন্যান্স প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈষম্য ও বর্ণবাদের অভিযোগে জরিমানা
তবে ফিলিস্তিনের আরেকটি পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে শাস্তি দিয়েছে ফিফা। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈষম্য ও বর্ণবাদী কর্মকাণ্ড, আক্রমণাত্মক আচরণ এবং ফেয়ার প্লে নীতিমালা লঙ্ঘন। ফিফার তিন বিচারক এসব অভিযোগ পর্যালোচনা করে মত দেন যে, ইসরাইলি ফুটবলে রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা প্রচার উপেক্ষা করা হয়েছে।
বিশেষ করে বেইতার জেরুজালেম ক্লাবের সমর্থকদের ধারাবাহিক বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের আচরণ স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়েছে। পাশাপাশি বসতি এলাকাগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ফুটবল অবকাঠামো থেকে কৌশলগতভাবে বাদ দেওয়ার বিষয়টিও তারা উল্লেখ করেন।
জরিমানার শর্ত ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
ফিফার শৃঙ্খলা বিষয়ক বিচারকরা ইসরাইল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের অভিযোগ বহাল রেখেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আপত্তিকর মন্তব্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ অর্থ বৈষম্য প্রতিরোধে সংস্কার, নজরদারি ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে ব্যয় করতে হবে, যা ফিফার অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন করবে ইসরাইল।
পুরো একটি মৌসুমজুড়ে স্টেডিয়াম ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সংস্কার, প্রোটোকল, পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষামূলক প্রচারণা চালাতে হবে। বিচারকরা বলেন, ‘বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জরিমানার এক-তৃতীয়াংশ ব্যয় করতে হবে। ফুটবল যে বৃহত্তর মানবিক প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়, তা থেকে আমরা উদাসীন থাকতে পারি না। এই খেলাটি শান্তি, সংলাপ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে থাকা উচিত।’
ফিফার এই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনের নিষিদ্ধের দাবি নাকচ হলেও ইসরাইলি ফুটবল সংস্থাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে। বৈষম্য ও বর্ণবাদ প্রতিরোধে ফুটবল কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়েছে এই রায়ে।



