ইরানের দুই নারী ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়ে ব্রিসবেন রোয়ারের সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন
ইরানের নারী ফুটবলাররা অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়ে ব্রিসবেন রোয়ারে প্রশিক্ষণ

ইরানের দুই নারী ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়ে ব্রিসবেন রোয়ারের সাথে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন

ইরানের দুই নারী ফুটবলার ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়ে ব্রিসবেন রোয়ার ক্লাবের সাথে প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেছেন। গত সপ্তাহে মহিলা এশিয়ান কাপে অংশ নেওয়া ইরানের ফুটবল প্রতিনিধিদলের সাত সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চেয়েছিলেন, কিন্তু বাকি পাঁচজন ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এখন কেবল এই দুই খেলোয়াড় সেখানে অবস্থান করছেন।

মহিলা এশিয়ান কাপে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকার

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইরানের নারী ফুটবল দল মহিলা এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে জাতীয় সঙ্গীত গাইতে অস্বীকার করে। এর ফলে দেশে তাদেরকে 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দেওয়া হয় এবং তারা নিরাপত্তার আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় চান। মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে ইরান সরকার বিদেশে অবস্থানরত ক্রীড়াবিদদের আত্মীয়দের হুমকি দিয়ে বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করে থাকে।

ব্রিসবেন রোয়ারের স্বাগত ও সমর্থন

ব্রিসবেন রোয়ারের প্রধান নির্বাহী কাজ পাটাফটা সোমবার একটি বিবৃতিতে বলেন, 'স্বাগতম, ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ও আতেফেহ রামেজানিসাদেহ।' তিনি ক্লাবের প্রশিক্ষণ সুবিধায় তাদের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, 'আমরা তাদের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে তারা পরবর্তী পর্যায়গুলো সফলভাবে অতিক্রম করতে পারেন।' ক্লাবটি ইতিমধ্যেই তাদের প্রশিক্ষণের ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দুই খেলোয়াড়কে হাসিমুখে দলটির সাথে দেখা যাচ্ছে।

ফাতেমেহ পাসান্দিদেহের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট

ফাতেমেহ পাসান্দিদেহ ইনস্টাগ্রামে ফিফার প্রধান ফুটবল কর্মকর্তা জিল এলিসের সাথে একটি ছবি পোস্ট করেছেন, যেখানে ক্যাপশন দেওয়া হয়েছে: 'সব ঠিক হয়ে যাবে।' জিল এলিস আগে মার্কিন জাতীয় দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই পোস্টটি আশার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রতিফলিত করেছে।

অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান ও সমর্থন

দুই খেলোয়াড়কে একটি গোপন স্থানে রাখা হয়েছে এবং তারা অস্ট্রেলিয় সরকার ও স্থানীয় ইরানি প্রবাসী সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সমর্থন পাচ্ছেন। ইরান সরকার পাল্টা অভিযোগ করেছে যে অস্ট্রেলিয়া খেলোয়াড়দের থাকতে বাধ্য করছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পটভূমিতে ঘটছে, যেখানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা ইরানে আঘাত হেনেছে।

ব্রিসবেন রোয়ারের পূর্ববর্তী বিবৃতি

গত সপ্তাহে খেলোয়াড়দের আশ্রয় মিলেছে এমন খবর প্রকাশের পর ব্রিসবেন রোয়ার একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছিল, 'ব্রিসবেন দেশের সবচেয়ে উৎসাহী ফুটবল সম্প্রদায়ের বাসস্থান, এবং রোয়ার পরিবারের একটি বড় হৃদয় রয়েছে। আমরা আমাদের দরজা খুলে দিতে সম্মানিত হব এবং আপনাদের প্রশিক্ষণ, খেলা ও অন্তর্ভুক্তির স্থান দেব।' এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দিকে এখন এগিয়ে যাচ্ছে ক্লাবটি।

এই ঘটনা ক্রীড়া জগতে রাজনৈতিক প্রভাব ও মানবাধিকার ইস্যুকে সামনে এনেছে, এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। দুই নারী ফুটবলারের ভবিষ্যৎ এখন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের নতুন জীবন গড়ার সংগ্রামের সাথে জড়িত।