সাংবাদিকের মন্তব্যে শাস্তির ভয়ে ইরানের নারী ফুটবলাররা
অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে ইরান দল। তবে টুর্নামেন্টের সময় দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের উপস্থাপক মোহাম্মদ রেজা শাহবাজির একটি মন্তব্য এখন ইরানের নারী ফুটবলারদের জন্য বড় বিপদ ডেকে এনেছে। জাতীয় সংগীতে গলা না মেলানোর অভিযোগে তিনি খেলোয়াড়দের 'যুদ্ধকালীন বিশ্বাসঘাতক' বলে অভিহিত করেছেন, যার ফলে খেলোয়াড়রা দেশে ফিরতে শাস্তির ভয় পাচ্ছেন।
কোচের অভিযোগ ও মানসিক প্রভাব
ইরান দলের কোচ মারজিয়ে জাফারি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই বিষয়ে অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, 'আমাদের মেয়েদের ওপর প্রথম ম্যাচে তৈরি হওয়া ভারী পরিবেশের প্রভাব পড়েছিল।' জাফারি আরও উল্লেখ করেন, 'বড় ভুলটি করেছেন তাঁরা, যাঁরা দেশে বসে সেই পরিস্থিতি না বুঝেই মেয়েদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন।'
তিনি ইরানের ফুটবল ফেডারেশনকে বিষয়টি তদন্তের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, 'এটি আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছে এবং এর পরিণতি আমাদের ভোগ করতে হয়েছে। আমি নিশ্চিত, ওই পরিস্থিতি তৈরি না হলে আমাদের কোনো খেলোয়াড়ই অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যেত না।'
রাজনৈতিক আশ্রয় ও ফুটবলারদের অবস্থা
টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া ইরান দলের ছয় সদস্য অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। কোচ জাফারি জানান, অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ খেলোয়াড়দের ডেকে নিয়ে তাদের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে সেখানে থেকে যেতে রাজি করানোর চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, 'সৌভাগ্যবশত দলের বেশির ভাগ সদস্যই এতে নেতিবাচক সাড়া দিয়েছে। মোহাদ্দেসে জোলফি প্রথমে ইতিবাচক সাড়া দিলেও দ্রুত মত বদলেছে এবং ইনশা আল্লাহ দলের সঙ্গে ইরানেই ফিরবে।'
গুজবের খণ্ডন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
অন্য দুই ফুটবলার গোলনুশ খোসরাভি ও আফসানেহ চাত্রেনুরের না ফেরার গুজব ছড়িয়েছে বলে জানান কোচ জাফারি। তিনি বলেন, 'এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তারা এখন আমাদের সঙ্গে মালয়েশিয়ায় আছে এবং শিগগিরই আমরা ইরানের উদ্দেশে রওনা হব।'
উল্লেখ্য, এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে এমন সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালায় এবং সে হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এই রাজনৈতিক উত্তেজনা টুর্নামেন্টের পরিবেশকেও প্রভাবিত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
