অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিত্তিতে আরও দুই ইরানি নারী ফুটবলার ভিসা পেলেন
অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক কারণে আরও দুই ইরানি নারী ফুটবল খেলোয়াড় ভিসা পেয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিডনিতে দলের বাকি সদস্যদের দেশত্যাগের আগে ভিসা প্রদান করা হয়েছিল।
মোট সাতজন সদস্য ভিসা পেয়েছেন
টনি বার্কের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভিসা পাওয়া ইরানি প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে। এর মধ্যে ছয়জন খেলোয়াড় এবং একটি সাপোর্ট টিমের একজন সদস্য রয়েছেন। এই প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ ইরানি দল সদস্যকে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সাক্ষাৎকার চলাকালে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ উপস্থিত ছিলেন, যাতে তারা ইরানি প্রশাসক বা মনিটরদের প্রভাব থেকে আলাদা থাকতে পারেন। বার্ক স্পষ্ট করে বলেন, 'বাকি খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট টিমের বেশিরভাগ সদস্যকে আলাদা রুমে নেওয়া হয়েছিল, কোনো মনিটর ছাড়াই। সেখানে কেবল তারা, হোম অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট এবং একজন অনুবাদক উপস্থিত ছিলেন।'
স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ
বার্ক আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানি খেলোয়াড়দের সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের উপর কোনো চাপ প্রয়োগ বা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়নি। এই প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ কমিশনারের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি।
এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা অস্ট্রেলিয়াকে সমালোচনা করে অভিযোগ করেছিলেন যে, দেশটি খেলোয়াড়দের আবেগের প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের দেশে না ফেরার জন্য প্রলুব্ধ করছে। তবে বার্ক জোর দিয়ে বলেন, ভিসা প্রদানের আগে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে খেলোয়াড়রা অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।
স্থানীয় ক্লাবের সহায়তার প্রস্তাব
একটি স্থানীয় সকার ক্লাব ইতিমধ্যেই এই ইরানি খেলোয়াড়দের নতুন দেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এটি তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ও মানবাধিকার সংক্রান্ত আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
