ফুটবল মাঠ রণক্ষেত্রে পরিণত: ব্রাজিলে ২৩, আর্জেন্টিনায় ৩৬ লাল কার্ডের রেকর্ড
দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল ম্যাচে মারামারি নতুন কিছু নয়, কিন্তু সম্প্রতি ব্রাজিলের মিনেইরো চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ঘটনাটি চরমে পৌঁছেছে। ক্রুজেইরো ও আতলেতিকো মাদ্রিদের মধ্যকার এই ম্যাচে বলের চেয়ে কিল, ঘুষি ও লাথিই বেশি চলে, যার ফলস্বরূপ রেফারি ম্যাথিয়াস দেলগাদো কানদানকা মোট ২৩ জন ফুটবলারকে লাল কার্ড দেখান।
ব্রাজিলের ইতিহাস ভাঙা ঘটনা
ক্রুজেইরোর ১২ ও আতলেতিকোর ১১ ফুটবলার এই লাল কার্ডের শিকার হন। ম্যাচ চলাকালীন ক্রুজেইরো মিডফিল্ডার ক্রিস্টিয়ান ও গোলকিপার এভারসনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়, বাকি ২১ জনকে ম্যাচ শেষে শাস্তি দেওয়া হয়। ব্রাজিলের সিনিয়র পর্যায়ের ফুটবলে এটি একটি ম্যাচে সর্বোচ্চ লাল কার্ডের রেকর্ড, যা ১৯৫৪ সালের রিও-সাও পাওলো টুর্নামেন্টে বোটাফোগো ও পর্তুগিজার মধ্যকার ম্যাচে ২২ লাল কার্ডের পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
বিশ্ব রেকর্ড আর্জেন্টিনায়
ব্রাজিলের এই ঘটনা প্রশ্ন জাগায়: এক ম্যাচে সর্বোচ্চ কতজন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন? উত্তর মিলেছে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে। ২০১১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি, আর্জেন্টিনার পঞ্চম বিভাগের ম্যাচে আতলেতিকো ক্লেপোল ও ভিক্টোরিয়ানো অ্যারেনাসের মুখোমুখি হয়। এই ম্যাচে দুই দলের সব খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট ৩৬ জন লাল কার্ড দেখেন, যা গিনেস বিশ্ব রেকর্ডে স্থান পেয়েছে।
আর্জেন্টিনার সেই ভয়াবহ দিন
সেদিন ভিক্টোরিয়ানোর বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা স্বাগতিক আতলেতিকোর জোনাথন লেদেসমার ওপর ভিক্টোরিয়ানোর রদ্রিগো সানচেজ চড়াও হলে সংঘাত শুরু হয়। এই ব্যক্তিগত সংঘাত দ্রুত পূর্ণাঙ্গ মারামারিতে রূপ নেয়, যেখানে দুই দলের মূল একাদশ, বদলি খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরাও জড়িয়ে পড়েন। রেফারি দামিয়ান রুবিনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ‘সাধারণ মারামারি’ ঘোষণা করে ৩৬ জনকে লাল কার্ড দেখান।
ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আতলেতিকোর কোচ সের্হিও মিচেইলি রেফারির সিদ্ধান্তকে ‘বোকামি’ আখ্যা দেন, অন্যদিকে ভিক্টোরিয়ানোর সভাপতি ডমিনিগো সাগনাগা রেফারির বিরুদ্ধে দায়িত্ব এড়ানোর অভিযোগ তোলেন। নিয়ম অনুযায়ী, পরের ম্যাচের জন্য দুই দলই কার্যত খেলোয়াড়শূন্য হয়ে পড়েছিল।
আদালতের চূড়ান্ত রায়
আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ডিসিপ্লিনারি ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানিতে ক্লাব দুটি যুক্তি দেয় যে রেফারি আক্রমণকারী ও শান্তিপ্রয়াসী খেলোয়াড়দের মধ্যে পার্থক্য করেননি। আতলেতিকো ম্যাচের ফুটেজসহ একটি ডিভিডি উপস্থাপন করে, যা ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।
চূড়ান্ত রায়ে, প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ৩৬ খেলোয়াড়ের মধ্যে মাত্র ৭ জনকে শাস্তি দেওয়া হয়। সংঘাতের উৎস রদ্রিগো সানচেজ ৭ ম্যাচ নিষিদ্ধ হন, অন্যদের মধ্যে ভিক্টোরিয়ানোর মাতিয়াস পারদো ও মাতিয়াস লাপোর্তে এবং আতলেতিকোর নিকোলাস আরান্দা, আদ্রিয়ান কারদোজা, অ্যালান কাস্ত্রো ও ভিক্টোরিয়ানোর ক্লদিও লেইভা শাস্তি পান। বাকি খেলোয়াড়দের রেহাই দেওয়া হয়, যাতে ক্লাবগুলো বড় ক্ষতির মুখে না পড়ে।
এই ঘটনাগুলো ফুটবল মাঠে শৃঙ্খলার গুরুত্ব ও মারামারির ভয়াবহ পরিণতি স্মরণ করিয়ে দেয়, যা খেলার মৌলিক চেতনাকে ক্ষুণ্ণ করে।
