ইরাকের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনিশ্চয়তায়: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কোচের ফিফার কাছে নতুন সময় নির্ধারণের আবেদন
ইরাকের বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনিশ্চয়তায়: কোচের ফিফার কাছে আবেদন

ইরাকের বিশ্বকাপ স্বপ্নে যুদ্ধের ছায়া: কোচের জরুরি আবেদন ফিফার কাছে

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সংঘাতের প্রভাবে ইরাকের ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের স্বপ্ন এখন গুরুতর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ইরাক জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বিশ্ব ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে তাদের প্লে-অফ ম্যাচের সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের জরুরি অনুরোধ জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া পুরুষ জাতীয় দলের সাবেক এই কোচ ফিফার কাছে ইরাকের জন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দলটি সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে পারে।

প্লে-অফ ম্যাচের সময়সূচি ও ইরাকের বড় চ্যালেঞ্জ

ইরাক আগামী ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মন্টেরেতে প্লে-অফ ম্যাচে সুরিনাম ও বলিভিয়ার মধ্যকার বিজয়ী দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। এই ম্যাচটিই নির্ধারণ করবে ইরাক ১৯৮৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে পদার্পণ করতে পারবে কি না। তবে ফিফার আন্তর্জাতিক উইন্ডো ২৩ মার্চ শুরু হলেও ইরাকের আকাশসীমা ১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত ম্যাচের মাত্র একদিন পর। এই অবস্থায় ইরাকের প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অস্ট্রেলিয়ান অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড বলেন, “দয়া করে এই ম্যাচ নিয়ে আমাদের সাহায্য করুন। কারণ এখন আমরা ইরাক থেকে আমাদের খেলোয়াড়দের বের করতেই হিমশিম খাচ্ছি।” আর্নল্ডের প্রথম পছন্দের দলে প্রায় ৬০ শতাংশ খেলোয়াড়ই ইরাকের ঘরোয়া লিগ থেকে আসেন, কিন্তু আকাশপথ বন্ধ থাকায় তারা দেশ ছাড়তে পারছেন না।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কোচিং স্টাফ ও প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সমস্যা

ইরাকের কোচিং স্টাফের সদস্যরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে আটকে রয়েছেন, যার মধ্যে সাবেক সিডনি এফসির উইঙ্গার ও দোভাষী আলি আব্বাসও আছেন। ইতোমধ্যে হিউস্টনে পরিকল্পিত প্রাক-ম্যাচ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প স্থগিত করা হয়েছে। ভিসা জটিলতা ও ভ্রমণ অনিশ্চয়তা আর্নল্ডের প্রস্তুতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। আর্নল্ড স্পষ্টভাবে বলেন, “আমার মতে ফিফা যদি ম্যাচটি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা সঠিকভাবে প্রস্তুতির সময় পাব।”

তিনি একটি বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন, যেখানে এই মাসেই বলিভিয়া ও সুরিনাম তাদের ম্যাচ খেলবে এবং বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রে ইরাক তাদের মুখোমুখি হবে। আর্নল্ড আরও উল্লেখ করেন যে, এই ব্যবস্থায় ফিফারও পর্যাপ্ত সময় থাকবে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার। যদি ইরান সরে দাঁড়ায়, তাহলে ইরাক সরাসরি বিশ্বকাপে যেতে পারে এবং বাছাইপর্বে ইরাকের কাছে হারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামনে সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

খেলোয়াড় নিরাপত্তা ও ঘরোয়া ফুটবলের প্রভাব

বৈশ্বিক ফুটবলার সংগঠন ফিফপ্রো ইতোমধ্যে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে। ইরাকের কিছু ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচও বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রভাবিত হয়েছে, বিশেষ করে এরবিল শহরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সেখানকার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

৬২ বছর বয়সী কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড সতর্ক করে দেন যে, কেবল বিদেশে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক দল গঠন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “এটা আমাদের সেরা দল হবে না। অথচ ৪০ বছরে দেশের সবচেয়ে বড় ম্যাচে আমাদের সেরা দলটাই দরকার।” ইরাকের ফুটবল সম্প্রদায় এখন ফিফার সাড়ার অপেক্ষায় রয়েছে, যা হয়তো তাদের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।