মেক্সিকোতে সহিংসতার মধ্যেও বিশ্বকাপে এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ঘোষণা
ফিফা বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র ১০০ দিন বাকি থাকতে গুয়াদালাহারায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে দুই নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার ঘটনা মেক্সিকোয় চলমান মাদক চক্রের সহিংসতার তীব্রতা প্রকাশ করেছে। বিশ্বকাপ ফুটবলের দরজায় কড়া নাড়ার এই সময়ে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে সহ–আয়োজক দেশ হিসেবে, দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মেক্সিকো সরকার এবারের বিশ্বকাপে দর্শকদের নিরাপত্তায় প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে, যা একটি ব্যাপক প্রস্তুতির ইঙ্গিত বহন করে।
সহিংসতার প্রেক্ষাপট ও বিশ্বকাপের শহরগুলো
মেক্সিকোর তিনটি শহরে বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে: জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী গুয়াদালাহারা, মন্তেরে এবং মেক্সিকো সিটি। গত মাসে গুয়াদালাহারায় সহিংসতার সূত্রপাত হয়, যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মন্তেরে ও মেক্সিকো সিটিতে সহিংসতার প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হলেও, সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। আগামী ১১ জুন শুরু হয়ে ১৯ জুলাই শেষ হওয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ দর্শকের আগমন ожиিত, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।
জালিস্কো কার্টেলের ভূমিকা ও সরকারের প্রতিক্রিয়া
মেক্সিকোর সবচেয়ে ভীতিকর অপরাধী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) এই সহিংসতায় জড়িত। তাদের নেতা ‘এল মেনচো’খ্যাত নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস সাম্প্রতিক সেনা অভিযানে নিহত হওয়ার পর থেকে সিজেএনজি মেক্সিকান সেনাবাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে জড়িয়ে পড়েছে। এল মেনচো ছিলেন মেক্সিকোর ‘মোস্ট ওয়ান্টেড ম্যান’, যুক্তরাষ্ট্রও তাঁকে ধরতে তৎপর ছিল এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। গত সপ্তাহে তাঁকে দাফন করা হলেও, সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেনবাউম শুক্রবার ২০২৬ বিশ্বকাপ নিরাপদে আয়োজন নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোও বলেছেন যে তিনি ‘খুবই আশ্বস্ত’ বোধ করছেন, সহিংসতার ঘটনা বিশ্বকাপের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা: প্ল্যান কুকুলকান
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ সমন্বয়কেন্দ্রের প্রধান রোমান ভিল্লালভাজো জানিয়েছেন, ‘প্ল্যান কুকুলকান’ নামে একটি ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে, যা মায়া সভ্যতার সর্পদেবতা থেকে অনুপ্রাণিত। এই পরিকল্পনার আওতায় ৯৯ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে, যাদের মধ্যে প্রায় ২০ হাজার সেনাসদস্য, ৫৫ হাজার পুলিশ এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।
নিরাপত্তা তৎপরতায় প্রস্তুত থাকবে প্রায় ২৫০০ সামরিক ও বেসামরিক যান, ২৪টি বিমান, ড্রোনবিরোধী ব্যবস্থা এবং বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন বিপজ্জনক বস্তু শনাক্তে প্রশিক্ষিত কুকুর। আয়োজক শহরগুলো এবং পর্যটন এলাকায় বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে, যাতে দর্শকরা নিরাপদে ভ্রমণ ও ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
মেক্সিকো সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ, যেখানে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের সফলতা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার ও ফিফার যৌথ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, স্থানীয় সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনা একটি চলমান চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তবে, মেক্সিকোর ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আশা জাগাচ্ছে যে বিশ্বকাপটি নিরাপদ ও সফলভাবে আয়োজিত হবে।



