ইরানের বিশ্বকাপ প্রত্যাহারের সম্ভাবনা: যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ইরান নিজেদের নাম প্রত্যাহার করতে চলেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ইরান এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন থেকে বাছাই পেরিয়ে বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠেছে এবং গ্রুপে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের বিপক্ষে খেলার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে, যা ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্বকাপের প্রভাব
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা আসন্ন বিশ্বকাপের প্রধান স্বাগতিক দেশ। বিশ্বকাপের সিংহভাগ আয়োজন করা হবে যুক্তরাষ্ট্রেই, এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান সেই দেশে গিয়ে বিশ্বকাপে না খেলার কথা ভাবছে। তেহরান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিগগিরই ইরান বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিতে পারে।
ফিফার প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
ফিফার মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রম শনিবার ওয়েলসের কার্ডিফে ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের বার্ষিক সভায় বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, 'আমি আজ সকালে ইরান নিয়ে যে খবর পড়েছি, আপনারাও একইভাবে পড়েছেন। আজ আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। বিস্তারিত মন্তব্য করার সময় এখনো আসেনি। তবে আমরা বিশ্বের সব বিষয় নিয়ে পরিস্থিতির অগ্রগতি নজরে রাখব।'
গ্রাফস্ট্রম আরও যোগ করেন, 'ওয়াশিংটনে ফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সব দল অংশ নিয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন। সব দল অংশ নেবে। আমরা সব সময়ের মতো তিনটি আয়োজক সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখব। সবাই নিরাপদ থাকবে।'
ইরানের ম্যাচের সময়সূচি ও সম্ভাব্য পরিবর্তন
বিশ্বকাপে ইরানের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে হওয়ার কথা ছিল। দুটি ম্যাচ লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে ম্যাচটি নির্ধারিত ছিল। যুদ্ধ পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই সময়সূচি পরিবর্তন হতে পারে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে, যা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর আয়োজনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, ফিফা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে। ইরানের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে বিশ্বকাপের গ্রুপ ও ম্যাচের সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে, যা ফুটবল বিশ্বকে প্রভাবিত করবে।
