বার্সেলোনার বিপর্যয়: কোপা দেল রে সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকোর ৪-০ গোলের জয়
বার্সেলোনার বিপর্যয়: অ্যাতলেটিকোর ৪-০ জয়

বার্সেলোনার জালে অ্যাতলেটিকোর চার গোল: কোপা দেল রে সেমিফাইনালে বড় ধাক্কা

প্রায় সব পরিসংখ্যানে এগিয়ে থেকেও প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে বার্সেলোনা। উল্টো চার গোল হজম করে কোপা দেল রে সেমিফাইনালের প্রথম লেগে বড় ধাক্কা খেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বৃহস্পতিবার রাতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ মেট্রোপলিটন স্টেডিয়ামে এই ম্যাচে ৪-০ ব্যবধানে জয়ী হয়ে দিয়েগো সিমিওনের দল ফাইনালের পথে এক পা এগিয়ে রাখল।

ম্যাচের সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে বার্সেলোনা। চোটের কারণে রাফিনিয়া ও মার্কাস রাশফোর্ডের অনুপস্থিতি দলকে ভোগায়। তৃতীয় মিনিটেই বড় সুযোগ পেয়েছিল অ্যাতলেটিকো, কিন্তু জুলিয়ানো সিমিওনের শট ঠেকান গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়া। তবে কিছুক্ষণ পরই গোলরক্ষকের ভুলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরিক গার্সিয়ার ব্যাকপাস ঠিকমতো সামলাতে না পেরে বল জালে জড়িয়ে যায়, যা আত্মঘাতী গোলে পরিণত হয়।

১৪ মিনিটে নাহুয়েল মোলিনার পাস থেকে আঁতোয়া গ্রিজম্যানের কোনাকুনি শটে ব্যবধান হয় ২-০। ২০ মিনিটে ফারমিন লোপেজের ভলি ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করে বার্সা। বিপরীতে আক্রমণে ধার বাড়াতে থাকে অ্যাতলেটিকো। ৩৩ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের পাস থেকে নিচু শটে আদেমোলা লুকমান তৃতীয় গোল করেন। যোগ করা সময়ে লুকমানের বাড়ানো বল জোরালো শটে জালে পাঠিয়ে চতুর্থ গোলটি করেন আলভারেজ।

দ্বিতীয়ার্ধের সংগ্রাম

দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে হ্যান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। ৫২ মিনিটে পাউ কুবারসির গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। ৮৫ মিনিটে কড়া ট্যাকলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এরিক গার্সিয়া, ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বার্সা। শেষ দিকে ফেররান তোরেসের হেড পোস্টের বাইরে চলে গেলে আর গোলের দেখা মেলেনি।

গত আসরের সাথে তুলনা

গত আসরেও সেমিফাইনালে অ্যাতলেটিকোকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বার্সেলোনা। তখন প্রথম লেগ ৪-৪ সমতায় শেষ হওয়ার পর ফিরতি লেগে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল তারা। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ন্যু ক্যাম্পে ফিরতি লেগে ৪-০ ব্যবধান পুষিয়ে নিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে বার্সাকে। ৩ মার্চ সেই লড়াইয়ে নামবে তারা, যেখানে তাদের বিপর্যয়কর ফলাফল কাটিয়ে উঠতে হবে।

এই জয়ের মাধ্যমে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ তাদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেছে, যখন বার্সেলোনাকে এখন কঠিন প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে বার্সেলোনার রক্ষণাত্মক দুর্বলতা এবং অ্যাতলেটিকোর কার্যকর আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে।