নারী ফুটবল লিগে নবাগত রাজশাহীর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প
নারী ফুটবল লিগে রাজশাহীর চ্যাম্পিয়ন হওয়া

নারী ফুটবল লিগে রাজশাহীর ঐতিহাসিক শিরোপা জয়

বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগের শেষ রাউন্ডে আজ কমলাপুর স্টেডিয়ামে এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই ম্যাচে নবাগত দল রাজশাহী স্টারস বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে প্রথমবারের মতো লিগ শিরোপা জিতেছে। চ্যাম্পিয়ন হতে রাজশাহীর দরকার ছিল মাত্র এক পয়েন্ট, অন্যদিকে সেনাবাহিনীকে জিততে হতো শিরোপা দৌড়ে টিকে থাকার জন্য। শেষ পর্যন্ত রাজশাহীর দাপুটে জয়ে সব হিসাব নিকাশ বদলে যায়।

ম্যাচের বর্ণনা: প্রথমার্ধে টক্কর, দ্বিতীয়ার্ধে রাজশাহীর দাপট

প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে। সেনাবাহিনী মাঝমাঠে বল দখলে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। রাজশাহীর বেশিরভাগ আক্রমণ সেনাবাহিনীর শক্তিশালী রক্ষণভাগে ভেস্তে যায়। আলপি আক্তারের মতো ফর্মে থাকা খেলোয়াড়ও প্রথমার্ধে বোতলবন্দী অবস্থায় ছিলেন। বিরতির আগমুহূর্তে সেনাবাহিনীর শিউলি আজিম ফাঁকা পোস্টে বল ক্লিয়ার করেন, না হলে হয়তো দলটি এক গোলের লিড পেয়ে যেত।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেই রাজশাহী গোল উদযাপন করে। ডান উইং ধরে সৌরভী আকন্দের দ্রুত আক্রমণে সেনাবাহিনীর রক্ষণ ভেঙে যায়। তাঁর বাড়ানো পাস থেকে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান আলপি আক্তার, রাজশাহী ম্যাচে এগিয়ে যায়। ৫৯ মিনিটে শাহেদা আক্তার ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রস থেকে সরাসরি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ৮৮ মিনিটে ঋতুপর্ণা নিজেই তৃতীয় গোলটি করেন, ফাঁকা রক্ষণ পেয়ে কোনাকুনি শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই জাতীয় দলের তারকা।

লিগের পটভূমি ও রাজশাহীর সাফল্য

দেড় বছর বিরতির পর এবার মাঠে গড়ায় নারী ফুটবল লিগ। প্রতিযোগিতা শুরুর আগে থেকেই মাঠের অব্যবস্থাপনা ও সূচি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ১১ দলের লড়াইয়ে রাজশাহী ছাড়াও সেনাবাহিনী ও ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব আলো ছড়িয়েছে। রাজশাহী এবারই প্রথম নারী লিগে দল গড়েছে, যা তাদের সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। গতবারের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমি এবার মাত্র এক ম্যাচ জিতেছে, আর সর্বোচ্চ তিনবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস অংশই নেয়নি।

১০ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে মৌসুম শেষ করেছে রাজশাহী স্টারস, যেখানে সেনাবাহিনী ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। এই জয় শুধু একটি দলের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ভবিষ্যতের জন্য একটি উজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।