বিবাদে জড়িয়েছিলেন ভালভের্দে ও চুয়ামেনি। ফেদেরিকো ভালভের্দে ও অঁরেলিয়ে চুয়ামেনির হাতাহাতি, একজনের হাসপাতালে ভর্তি আর দুজনের লাখ ইউরো জরিমানা—সব মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ড্রেসিংরুমের অশান্তি এখন টক অব দ্য স্প্যানিশ ফুটবল। এমন পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়ে নিজের খেলোয়াড়দের ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন কোচ আলভারো আরবেলোয়া। দলের পেশাদারত্ব নিয়ে ওঠা খবরকে বলেছেন ‘মিথ্যা’, আর ড্রেসিংরুমের গোপন তথ্য বাইরে আসাটাকে বলেছেন ক্লাবের সঙ্গে বড় ‘বিশ্বাসঘাতকতা’।
ক্লাসিকোর আগে অশান্তি
রিয়াল কোচকে দল অস্বস্তিকর এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে হয়েছে এমন সময়ে, যার পরদিনই লিগে সবচেয়ে মর্যাদার ম্যাচটি খেলতে নামবে তাঁর দল। আগামীকাল ক্যাম্প ন্যুতে লা লিগার ম্যাচে বার্সেলোনার মুখোমুখি হবে রিয়াল, এই ম্যাচেই চলতি মৌসুমের লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে ফেলতে পারে স্বাগতিকেরা।
ঘটনার বিবরণ
রিয়ালের অনুশীলনে চুয়ামেনি ও ভালভের্দের মধ্যে হাতাহাতি হয় গত বুধবার। এরপর বৃহস্পতিবারও দুজনের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। যার এক পর্যায়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যেতে হয়েছে ভালভের্দেকে। শুক্রবার রিয়াল মাদ্রিদ জানায়, বিবাদে জড়ানোয় দুই ফুটবলারকে ৫ লাখ ইউরো করে জরিমানা করা হয়েছে।
কোচের বক্তব্য
এল ক্লাসিকো সামনে রেখে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ আরবেলোয়া জানান, চুয়ামেনি এরই মধ্যে দলের অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। বার্সার বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বিবেচনাও করা হবে। চুয়ামেনি ও ভালভের্দে দুজনই এখন সামনের দিকে তাকিয়ে বলেও মন্তব্য করেন তিনি, ‘দুজনই অনুশোচনা প্রকাশ করেছে, তারা তাদের ভুল স্বীকার করেছে। ফলাফল (জরিমানা) মেনে নিয়েছে এবং ক্ষমা চেয়েছে। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট। আমি আমার খেলোয়াড়দের পুড়িয়ে মারব না। তারা কেউই অতটা ভোগার মতো কাজ করেনি।’
দুই খেলোয়াড়ই চুয়ামেনি ভালভার্দেকে ঘুষি মেরেছেন এমন খবর অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ভালভার্দে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন, যার ফলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে সেলাই দেওয়া হয়। রিয়াল কোচ দুজনের প্রতি আস্থা তুলে ধরে যোগ করেন, ‘এই ক্লাবের জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তাদের প্রাপ্য। আমি তাদের নিয়ে খুব গর্বিত। এই বিষয়টির সুযোগ নিয়ে কেউ আমার খেলোয়াড়দের পেশাদারত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলুক, তা আমি হতে দেব না।’
আরবেলোয়ার অবস্থান
জানুয়ারিতে জাবি আলোনসোকে সরিয়ে দেওয়ার পর আরবেলোয়াকে অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব দিয়েছে রিয়াল। শুরুতে দল ভালো করলেও গত কয়েক সপ্তাহ মাঠের ফল তাঁর পক্ষে বলছে না। চলতি মৌসুমে রিয়াল কোনো ট্রফি না জিতে মৌসুম শেষ করতে যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আরবেলোয়ার দল পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যান্য বিতর্ক
ইএসপিএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দানি কারভাহাল, দানি সেবায়োস এবং রাউল আসেনসিওসহ বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে আরবেলোয়ার মতপার্থক্য ছিল। এ ছাড়া কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং কোচিং স্টাফের অন্য এক সদস্যর সঙ্গেও একটি ঘটনা ঘটেছিল। সেসব খবরের দিকে ইঙ্গিত করে আরবেলোয়া বলেন, ‘অনেক মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে। আমার খেলোয়াড়েরা পেশাদার নয়, এটি একটি মিথ্যা কথা। আমার খেলোয়াড়েরা আমাকে অসম্মান করেছে, এটি পুরোপুরি মিথ্যা, একবারের জন্যও এমনটা ঘটেনি। আমার সঙ্গে সমস্যা থাকার কারণে খেলোয়াড়েরা খেলছে না, বা তাদের জীবনধারা একজন রিয়াল মাদ্রিদ খেলোয়াড়ের মতো নয়—এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
ইএসপিএন আরও লিখেছিল, আন্তোনিও রুডিগার এবং আলভারো কারেরাসের মধ্যে উত্তপ্ত তর্ক হয়েছিল। যদিও কারেরাস ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানান যে এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল, পরে সমাধানও হয়ে গেছে। এসব তথ্য ফাঁসের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে আরবেলোয়া বলেন, ‘আমার কাছে সবচেয়ে গুরুতর এবং কষ্টের বিষয় হলো রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমে যা ঘটে তা সেখানেই থাকা উচিত। যদি ড্রেসিংরুমের ভেতরকার বিষয় বাইরে ফাঁস হয়, তবে আমি মনে করি এটি রিয়াল মাদ্রিদ এবং এই লোগোটি যা প্রতিনিধিত্ব করে, তার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’
উদাহরণ হিসেবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করে তিনি যোগ যোগ করেন, ‘আমি সিআইএ বা এমন কোনো সংস্থায় কাজ করি না। আমি খেলোয়াড় বা অন্য কাউকে দোষারোপও করছি না। রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলের আশপাশে অনেক মানুষ থাকে, আমি এখানে কারও দিকে আঙুল তুলতে আসিনি। আমি নিজে উদাহরণ তৈরি করার চেষ্টা করি এবং আমার ও আমার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত কথোপকথন সব সময় গোপনই থাকবে।’



