বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের হয়ে নিজের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাফিনিয়া। বার্সেলোনায় শেষ দুই মৌসুমে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর এবার ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য তার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোলশূন্য থাকলেও এবার ফর্ম ও আত্মবিশ্বাস তাকে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ক্লাব বনাম জাতীয় দলের পার্থক্য
ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে একটি সাধারণ ধারণা আছে যে রাফিনিয়া ক্লাবে যেমন পারফর্ম করেন, জাতীয় দলে তেমন পারেন না। কিন্তু ২০২৪ কোপা আমেরিকার পর থেকে তার খেলায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। বার্সেলোনায় হানসি ফ্লিকের অধীনে নিজেকে পুরোপুরি মেলে ধরেছেন তিনি। ঘরোয়া ডাবল জয় এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে পৌঁছে ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরে আসা
গত ১০ ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে ৪ গোল ও ১ অ্যাসিস্ট করেছেন রাফিনিয়া। তবে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট তাকে বারবার বাধা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে ১১২ দিন মাঠের বাইরে থাকলেও ফিরে এসে ৩১ ম্যাচে ১৯ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করেছেন। বার্সেলোনায় তার উপস্থিতি দলের জয়ের হার ৮৫ শতাংশে নিয়ে গেছে, যা তার অনুপস্থিতিতে ৫৮ শতাংশে নেমে আসে।
আধুনিক ফুটবলের প্রয়োজনীয় খেলোয়াড়
ব্রাজিল ঐতিহ্যগতভাবে ‘জোগো বনিতো’ বা সুন্দর ফুটবলের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু রাফিনিয়া সেই ধারায় পড়েন না। তিনি ড্রিবলিংয়ের চেয়ে প্রেসিং ও গোল করার দক্ষতায় বেশি পারদর্শী। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তার মুন্সিয়ানা দিয়ে রাফিনিয়াকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে জুটি বাঁধাতে পারেন। রিয়াল মাদ্রিদে ভিনির সঙ্গে বেনজেমা ও বেলিংহামের মতো ভূমিকা পালন করতে পারেন রাফিনিয়া।
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চ
২০২২ বিশ্বকাপে ৩১৭ মিনিট খেলেও গোল করতে পারেননি রাফিনিয়া। তবে এবার ফর্ম ও অভিজ্ঞতা তাকে ভিন্ন খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বড় মঞ্চে নিজের সেরাটা দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করেছেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চ আরও বড়, সেখানে চৌগুণ দ্যুতি ছড়ানোর লক্ষ্য তার। ব্রাজিলের জার্সিতে এবারই প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছেন রাফিনিয়া।



