ভারতে নারীদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে লাল-সবুজ দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফঈদা খন্দকার। বুধবার সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের লক্ষ্য ছাড়াও দর্শকদের সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাতক্ষীরা থেকে উঠে আসা এই ডিফেন্ডার। আফঈদার কথাতেই স্পষ্ট দর্শকদের মানসিকতার পরিবর্তন চাচ্ছেন তিনি। যাতে তারা সব সময়ই খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিয়ে অনুপ্রাণিত করেন।
বাফুফে ভবনে নিজের ফর্ম এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আফঈদা বলেছেন, ‘আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তার অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা হয়।’
সিনিয়র পর্যায়ে নিজের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন এবং ফর্মে ফেরার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আফঈদা বললেন, ‘আসলে একজন খেলোয়াড়ের সব সময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তার অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়। আমি চাই মানুষের এই চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসুক, তারা যেন খেলোয়াড়দের সবসময় উৎসাহিত করেন।’
এবারের সাফে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন মমিতা খাতুন এবং অর্পিতা বিশ্বাস। গত সাফের ২৩ জনের স্কোয়াড থেকে এবারের দলে বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন করে ভারতে যাচ্ছেন ১০জন ফুটবলার।
এক প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান, ‘দলে নতুন বলতে আসলে কিছু নেই। খেলোয়াড়রা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে নিবিড় অনুশীলন করছেন এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো কিছু হবে।’
টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার ভারতে যাচ্ছে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে নিশ্চিতভাবেই চাইবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে। ভারত-চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফঈদা জানান, ‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত চাইবে না বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক করুক, তবে তাদের হারানোর পুরো প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি আমরা। যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি কোনো মানসিক চাপ নেই জানিয়ে আফঈদা বলেছেন, ‘মাঠে নামার পর হ্যাটট্রিকের চিন্তা মাথায় থাকে না। প্রত্যাশার চাপ ওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি তখন আমাদের মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা ওপরওয়ালার হাতে।’
সম্প্রতি এএফসি কাপে দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে আফঈদা বলেন, ‘হার-জিত খেলার অংশ এবং এএফসিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দল শিখেছে যে, এই পর্যায়ের ফুটবলে পুরোটা সময় একাগ্রতা ধরে রাখা কতটা জরুরি। একাগ্রতা হারানোর কারণেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলগুলো হজম করতে হয়েছিল।’



