একরাশ চমক দিয়ে শেষ হলো ফিফার ৭৬তম কংগ্রেস। ভ্যাংকুভারে আয়োজিত এই কংগ্রেসে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ক্ষমতার এক নতুন চিত্র ফুটে উঠেছে। বরাবরের মতোই ইনফান্তিনো ঘোষণা করেছেন যে, তিনি আগামী ২০২৭ সালের নির্বাচনেও সভাপতি পদে লড়বেন। বর্তমানে তার পক্ষে এশিয়া, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ১১১টি দেশের সমর্থন রয়েছে। ফলে আগামী নির্বাচনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা।
ইনফান্তিনোর মেয়াদ ও সমর্থন
ফিফার নিয়মানুযায়ী একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারেন। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে ইনফান্তিনোর প্রথম ৩৯ মাসকে এই মেয়াদের বাইরে রাখা হয়েছে। এর ফলে ২০৩১ সাল পর্যন্ত তার ফিফায় থাকা প্রায় নিশ্চিত। ইনফান্তিনো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ফুটবলের ভবিষ্যৎ এখন আর শুধুই ইউরোপকেন্দ্রিক নয়। বরং ফিফা এখন নতুন বিশ্বের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে। আসন্ন বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের জন্য ভাতার পরিমাণ আরও ২ মিলিয়ন ডলার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক কৌশল ও সমালোচনা
ইনফান্তিনোর মতে, ফিফার টাকা মানে প্রতিটি ফুটবল ফেডারেশনের টাকা। তবে সমালোচকরা মনে করেন এই আর্থিক সুবিধা দিয়েই তিনি নিজের ভোটব্যাংক মজবুত করছেন। বিশ্বের অন্তত ১৫০টি দেশ এখন ফিফার অনুদানের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
কূটনৈতিক টানাপড়েন
কংগ্রেসে কূটনৈতিক টানাপড়েনও ছিল। ভ্যাংকুভারে ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি হ্যান্ডশেক বা করমর্দনের চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। কিন্তু তার সেই চেষ্টা চরমভাবে ব্যর্থ হয়। ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জিবরিল রাজৌব ইসরাইলি প্রতিনিধিদের সঙ্গে একই মঞ্চে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনা ফিফা কংগ্রেসের ঐক্যের বার্তায় একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হয়েছে।
রাজনীতি বনাম ফুটবল
ইনফান্তিনো বরাবরই বিশ্বাস করেন যে ফুটবল বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। কিন্তু ভ্যাংকুভারের এই ঘটনা প্রমাণ করেছে যে রাজনীতি ফুটবলের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী। অনেকেই ইনফান্তিনোর এই কূটনৈতিক ব্যর্থতা তার রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা হিসেবেই দেখছেন। বিশ্বনেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়েও এমন একটি সংবেদনশীল ইস্যুতে তার ভুল পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা থামছে না। ফুটবলের বৈশ্বিক সংগঠন হিসেবে ফিফার ভাবমূর্তি রক্ষায় এখন ইনফান্তিনোর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।



