বিয়ের দুই সপ্তাহেই নববধূকে ফেলে চিরবিদায় জেলের
বিয়ের দুই সপ্তাহেই নববধূকে ফেলে চিরবিদায় জেলের

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় নববধূকে ফেলে চিরবিদায় নিলেন জেলে স্বপন। সোমবার বিকালে মেঘনা নদীতে চিংড়ি শিকার করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। দুই দিন পর বুধবার দুপুরে একই স্থান থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

দুর্ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে কমলনগর উপজেলার নবীগঞ্জ সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মই জাল দিয়ে চিংড়ির রেণুপোনা আহরণ করতে যান স্বপন। নদীতে জাল ফেলার পর সাঁতরে সেটি টানার সময় অসাবধানতাবশত তার পায়ের সঙ্গে জালের রশি পেঁচিয়ে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি গভীর পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন।

উদ্ধার অভিযান

খবর পেয়ে কমলনগর ফায়ার সার্ভিস এবং চাঁদপুর থেকে আসা ডুবুরিদের একটি বিশেষ দল দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালায়। তবে টানা দুই দিন চেষ্টা করেও তারা স্বপনের কোনো সন্ধান পায়নি। বুধবার দুপুরে ঠিক যে স্থানে তিনি তলিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার মরদেহ ভেসে ওঠে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের বক্তব্য

স্বপনের প্রতিবেশী আজাদ উদ্দিন বলেন, নদীর গভীরে থাকা কোনো গাছের গুঁড়ি বা অন্য কিছুর সঙ্গে মই জালের বাঁশ ও রশি আটকে গিয়েছিল। এ কারণে মরদেহটি দূরে ভেসে যেতে পারেনি। ডুবুরিরা খুঁজে না পেলেও দুই দিন পর একই স্থানে মরদেহ ভেসে ওঠাকে আমরা মিরাকল হিসেবে দেখছি।

শোক ও পরিবারের অবস্থা

মৃত স্বপন (২২) উপজেলার চরলরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল কাশেমের বাড়ির মো. বাবুলের ছেলে। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ উদ্ধারের পর নদীর তীরে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শত-শত গ্রামবাসী কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় তার নববধূসহ আত্মীয়স্বজন ও সহপাঠীদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বপনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার পর ঘরে থাকা তার নববধূ আঁখি আক্তার বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিয়ের মাত্র ১৪ দিনের মাথায় স্বামীকে হারিয়ে এখন অনেকটা নির্বাক হয়ে পড়েছেন তিনি।

পুলিশের বক্তব্য

কমলনগর থানার ওসি মো. ফরিদুল আলম জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার তৎপরতায় নিয়োজিত ছিল। আজ স্থানীয়রা লাশটি উদ্ধার করেছেন। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

স্বপনের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোক বিরাজ করছে। তার নববধূর করুণ অবস্থা সবার হৃদয়ে বেদনার সঞ্চার করেছে।