বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর সর্বশেষ এ ডিপ্লোমা কোর্স অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ৪ এপ্রিল। এই কোর্সে স্থানীয় কোচরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। কোর্সটিতে তিউনিসিয়ার ট্রেনার খলিল চাকরোনেরও অংশগ্রহণের কথা ছিল। কিন্তু তার দাবি, আবেদন করেও বাফুফে থেকে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন খলিল।
কোচদের জন্য বাফুফের কোর্স
প্রতি বছর বাফুফেতে বিভিন্ন মেয়াদে কোচদের জন্য কোর্স আয়োজন করা হয়, যেখানে স্থানীয় ও বিদেশি কোচরা অংশ নেন। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সবাই কোর্সে অংশ নিয়ে থাকেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে খলিল দাবি করছেন, তার ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেছে।
খলিলের বক্তব্য
তিউনিসিয়া থেকে বাংলা ট্রিবিউনকে খলিল বলেছেন, ‘আমি যথাযথ নিয়ম মেনে বাফুফেতে এ ডিপ্লোমা কোর্সের জন্য আবেদন করি। প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রও জমা দিয়েছি। আশা করেছিলাম কোর্সটি করতে পারবো। কিন্তু বারবার যোগাযোগ করেও বাফুফে থেকে কোনো উত্তর পাইনি। বরং আমাকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, নিবন্ধনই করা হয়নি। অথচ ৪ এপ্রিল কোর্স শুরু হয়ে শেষও হয়েছে। যদি আমাকে বাতিল করা হয়, তাহলে কেন করা হয়েছে—তা-ও কেউ বলেনি।’
খলিলের আরও একটি পরিচয় রয়েছে—তিনি বসুন্ধরা কিংসের সাবেক ফিজিক্যাল ট্রেনার। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত কাজ করার পর বেতন না পেয়ে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এরই মধ্যে তিনি ফিফার কাছে পারিশ্রমিক নিয়ে অভিযোগও করেছেন। তার ধারণা, কোচিং লাইসেন্স কোর্সে অংশগ্রহণের অনুমতি না পাওয়ার পেছনে সাবেক ক্লাবের প্রভাব থাকতে পারে। খলিল বলেছেন, ‘আমাকে কোর্সের জন্য অনুমতি না দিলে বলে দিতো। কিন্তু বারবার যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাইনি, এটা ঠিক নয়। আমার মনে হয় ঢাকার সাবেক ক্লাবের কোনো ইন্ধন আছে এতে। আমি বিষয়টি এএফসিতে জানিয়েছি।’
বাফুফের ব্যাখ্যা
তবে খলিলের এসব অভিযোগকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর সাইফুল বারী টিটু, ‘কোর্স চলাকালীন খলিল আমাকে বড় একটি বার্তা দিয়েছিল, জানতে চেয়েছিল কেন তাকে কোর্সে রাখা হয়নি। তখন আমি খোঁজ নিয়ে দেখি, সে আসলে আবেদনই করেনি। আমাদের মাহবুব আহমেদ পলো বিষয়টি এমনই জানিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ও যদি কোর্সের আগে যোগাযোগ করতো, তাহলে হয়তো এমন সমস্যা হতো না। আর বসুন্ধরা কিংস কেন ওর বিষয়ে আপত্তি করবে? ওদের কাছ থেকে এ বিষয়ে কেউ কিছু বলেনি। খলিলের ধারণা ভুল।’



