নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফিফার শান্তি পুরস্কার বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন
নরওয়ে ফুটবল প্রধান ফিফার শান্তি পুরস্কার বাতিলের আহ্বান

গত বছরের নভেম্বরে ফিফা ‘পিস প্রাইজ’ তথা শান্তি পুরস্কার চালুর ঘোষণা দেয়। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানায়, বিশ্ব শান্তিতে অবদানের স্বীকৃতি দিতেই এই পুরস্কার। প্রথমবারের মতো এই সম্মাননা পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক এখনও চলমান। এমন পরিস্থিতিতে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি লিসে ক্লাভেনেস ‘পিস প্রাইজ’ বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন।

পুরস্কার প্রদানের ঘটনা

২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটনে ৫ ডিসেম্বর ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্টিনো ট্রাম্পের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ক্লাভেনেস। তার মতে, রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার মতো বিষয়ে ফিফার জড়ানো উচিত নয়; বরং সংস্থাটির কঠোর নিরপেক্ষতা বজায় রাখা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘শান্তি-সংক্রান্ত অবদান মূল্যায়নের মতো কোনো ম্যান্ডেট বা সক্ষমতা ফিফার নেই।’

বিতর্কের কারণ

ক্লাভেনেস আরও সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ সংস্থাটির রাজনৈতিক স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। তার মতে, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থাকার কথা যে সংস্থার, তাদের পক্ষে ‘পিস প্রাইজ’ দেওয়ার মতো উদ্যোগ নেওয়া যথাযথ নয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সোমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা (ফিফা পিস প্রাইজ) বাতিল দেখতে চাই। এমন পুরস্কার প্রদান ফিফার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। এ কাজটি স্বাধীনভাবে করার জন্য ইতোমধ্যে নোবেল ইনস্টিটিউট রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবল ফেডারেশন, কনফেডারেশন এবং ফিফার জন্য রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের পুরস্কার সাধারণত রাজনৈতিক হয়ে ওঠে, যদি না তা নিরপেক্ষভাবে দেওয়ার মতো শক্ত কাঠামো ও অভিজ্ঞতা থাকে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মানবাধিকার সংগঠনের অভিযোগ

এখানে আরও উল্লেখ্য, মানবাধিকার সংগঠন ফেয়ারস্কোয়ার ফিফার কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে দাবি করেছে যে, ইনফান্টিনো সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নীতির চারটি স্পষ্ট লঙ্ঘন করেছেন।

ক্লাভেনেস মানবাধিকার সংগঠনটির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ‘আমরা প্রক্রিয়াটি নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছি, কারণ এটি ফিফা কাউন্সিলে আলোচনা হয়নি এবং আমাদের মতে, এটি ফিফার ম্যান্ডেটের বাইরের বিষয়। এটি রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন কিনা, তা মূল্যায়ন করা উচিত—যা নৈতিকতা কমিটি দেখবে। শুধু গণমাধ্যমে কথা বলাই যথেষ্ট নয়, সংস্থার ভেতরেও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমরা মনে করি, ফেয়ারস্কোয়ারের অভিযোগটি যথাযথভাবে বিবেচনা ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করা উচিত।’