জাতীয় দলের নতুন কোচ কেমন চান খেলোয়াড়েরা?
জাতীয় দলের কোচ কেমন চান খেলোয়াড়েরা?

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ নিয়োগ ঘিরে এবার সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব আগ্রহ ও আলোচনা। দেশের ফুটবল ইতিহাসে এর আগে কখনও জাতীয় দলের কোচ নিয়োগকে কেন্দ্র করে এমন শোরগোল দেখা যায়নি। আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির পর প্রায় ৩০০ বিদেশি কোচ আগ্রহ দেখিয়েছেন। যাদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ পর্যায়ে কাজ করা বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল নামও।

কিন্তু প্রশ্ন হলো যাদের জন্য এই কোচ নিয়োগ, সেই খেলোয়াড়রাই আসলে কেমন কোচ চান? বিশেষ করে হাভিয়ের কাবরেরার অধীনে তিক্ত অভিজ্ঞতার পর জাতীয় দলের ডাগআউটে কেমন নেতৃত্ব প্রয়োজন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা দিয়েছেন নানা মতামত।

খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা

বরিশাল থেকে উঠে আসা ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য মুখ। কোচ যেই হোন না কেন, তার পারফরম্যান্সই তাকে দলে জায়গা করে দিয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনের কাছে নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আসলে এখানে বলার কিছু নেই। সবাই চায় ভালো মানের কোচের অধীনে অনুশীলন করে খেলতে, যেন মাঠে ভালো পারফরম্যান্স করা যায়। আমি বা আমরাও তার ব্যতিক্রম নই।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দলের সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে রাকিব আরও বলেছেন, ‘মাঠে খেলে ১১ জন। বাইরে রয়েছে আরও ২২ জন। এখন সবাইকে এক সূতোয় গাঁথতে হবে, যেন সবাই নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।’

নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কোচের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ‘কোচ শুধু আমাদের শেখাবেন না, আমাদের কাছ থেকে সেরাটা আদায় করে নেওয়ার মতো সামর্থ্য থাকতে হবে। অনেক সময় একজন খেলোয়াড়ের দিন খারাপ যেতে পারে। কোচকে খেলোয়াড়দের মানসিকতাও বুঝতে হবে এবং সেই অনুযায়ী সবাইকে উজ্জীবিত করতে হবে।’

তার মতে, দল গঠনের ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা জরুরি, ‘ঘরোয়া ফুটবলের পারফরম্যান্স দেখে সেরা খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে নিতে হবে। তাহলে দলের ইতিবাচক ফল আসে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অতীতের কোচদের সাফল্য

বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে একাধিক উচ্চমানের কোচ কাজ করেছেন। কেউ নিজেরা বিশ্বকাপ খেলেছেন, কেউ আবার দলকে বিশ্বকাপে তুলেছেন। যেমন ইরানের নাসের হেজাজী ও ইরাকের সামির সাকির—দুজনেই বিশ্বকাপে নিজেদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আবার অটো ফিস্টারের মতো কোচও ছিলেন, যিনি টোগোকে বিশ্বকাপে খেলিয়েছেন।

অন্যদিকে জোরান দর্দেভিচ বা জর্জ কোটান বিশ্বকাপে না খেললেও, তাদের কোচিং ক্যারিয়ারে সাফল্যের অভাব ছিল না। তারা ফিস্টার বা সাকিরদের মতোই কার্যকর অবদান রাখতে পেরেছেন।

সাবেক তারকাদের মতামত

এই বাস্তবতায় সাবেক তারকা স্ট্রাইকার জাহিদ হোসেন এমিলির মতামত, ‘একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সেরাটা বের করার সামর্থ্য যার আছে, তাকেই কোচ হিসেবে নেওয়া উচিত। আগে কিন্তু আমরা ভালো কোচ পেয়েছি এবং তাদের অধীনে সাফল্যও এসেছে। আশা করছি এবারও তেমন কোচ আসবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু জীবনবৃত্তান্ত দেখে নয়, ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়েই কোচ নিয়োগ দেওয়া উচিত। যার মাঠে সাফল্য আছে, তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার। হামজা, মোরসালিন কিংবা রাকিবদের কাছ থেকে কীভাবে আরও ভালো পারফরম্যান্স বের করে আনা যায়—সেই সক্ষমতা থাকতে হবে কোচের।’

কোচ নির্বাচন প্রক্রিয়া

কোচদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই করে তালিকা ছোট করার দায়িত্ব পড়েছে ছাইদ হাসান কাননসহ তিন সদস্যের ওপর। দেশের সাবেক সেরা গোলকিপার ও ম্যানেজার হিসেবে কাননের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। জাতীয় দল ম্যানেজমেন্ট কমিটি ও বাফুফেতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কানন বলেছেন, ‘এখন তো আগের দিন নেই। আধুনিক ফুটবলে সেই মানের কোচই নিতে হবে। শুরুতেই তার উয়েফা প্রো লাইসেন্স থাকতে হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দেশের ফুটবল কাঠামো, খেলোয়াড়দের মান, অতীত ইতিহাস—এসব সম্পর্কে ধারণা থাকলে ভালো। সবচেয়ে বড় বিষয়, হামজা চৌধুরীর মতো ফুটবলার এখন দলে আছে। বিদেশি বংশোদ্ভুত খেলোয়াড়ও আছে। তাদের সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য অভিজ্ঞ ও মানসম্পন্ন কোচ দরকার। যিনি বড় মাপের খেলোয়াড়দের সামলাতে জানেন এবং স্থানীয় ও প্রবাসী খেলোয়াড়দের এক করে দলীয় সাফল্য এনে দিতে পারবেন।’

তার মতে, কোচকে যেকোনো পরিস্থিতিতে দলকে সামলে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে।

অপেক্ষার প্রহর

প্রায় ৩০০ জন প্রার্থীর জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাইয়ের পর শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে বাংলাদেশের জাতীয় দলের দায়িত্ব—এখন সেই সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুরো ফুটবল অঙ্গন। নতুন কোচ কি পারবেন প্রত্যাশার ভার সামলে দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে? যার উত্তর সময়-ই বলে দেবে।