মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে আজ বুধবার সকালে জার্মানির পতাকা উড়েছে। প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই পতাকা তৈরি ও প্রদর্শন করেছেন স্থানীয় কৃষক আমজাদ হোসেন (৭২)। তাঁর এই আয়োজন ঘিরে মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
পতাকা প্রদর্শনীর আয়োজন
সকালে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে পতাকাটি মাঠে আনা হয়। ছোট একটি ট্রাকে বলের আদলে মোড়ানো পতাকাটি উন্মোচন করা হলে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে এই প্রদর্শনী উপভোগ করেন ফুটবলপ্রেমীরা।
জার্মানির প্রতি ভালোবাসার গল্প
আমজাদ হোসেনের জার্মানির প্রতি এই অনুরাগের পেছনে রয়েছে একটি বিশেষ ঘটনা। ২০০৪-০৫ সালে তিনি জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানি থেকে আনা একটি ওষুধ সেবন করে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। কৃতজ্ঞতা থেকে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানির পক্ষে সমর্থন জানাতে প্রথম পতাকা তৈরি করেন তিনি।
পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়ানোর ইতিহাস
২০০৬ সালে তিনি প্রথমে প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপে পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। ২০১০ সালে ২.৫ কিলোমিটার, ২০১৪ সালে ৩.৫ কিলোমিটার, ২০১৮ সালে ৫.৫ কিলোমিটার এবং সর্বশেষ ২০২২ সালে সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন।
জমি বিক্রি করে পতাকা বানানো
পরিবারের সমর্থন না পেলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আমজাদ। পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়াতে তিনি জমিও বিক্রি করেছেন। ২০১৪ সালে প্রায় ২০ শতক জমি ও ২০১৮ সালে আরও ১০ শতক জমি বিক্রি করেন তিনি।
জার্মান দূতাবাসের স্বীকৃতি
আমজাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে জার্মান দূতাবাসের। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফার্দিনান্দ ভন ওয়েহি মাগুরায় এসে তাঁকে সংবর্ধনা দেন এবং জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন।
আমজাদের স্বপ্ন
আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এই পতাকা আমার কাছে সন্তানদের চেয়ে কম নয়।’ তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা, এই বিশাল পতাকাটি যেন জার্মানির কোনো জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়। ভবিষ্যতে পতাকার দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর আশা প্রকাশ করেন তিনি।



