যুক্তরাষ্ট্রের গরমে কাহিল নরওয়ে, বিশ্বকাপে নতুন চ্যালেঞ্জ আবহাওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের গরমে কাহিল নরওয়ে, বিশ্বকাপে চ্যালেঞ্জ আবহাওয়া

২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরেছে নরওয়ে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার পরই নতুন এক প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়েছেন আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওডেগার্ডরাথরা। সেটি কোনো দল নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া। উত্তর ইউরোপের শীতপ্রধান দেশ নরওয়ের অধিকাংশ সময় তাপমাত্রা থাকে শূন্যের নিচে। বছরের প্রায় আট মাস দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা মাইনাস ১ থেকে মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করে। কোথাও কোথাও তা নেমে যায় মাইনাস ৪০ ডিগ্রির ঘরে। গ্রীষ্মকালেও সাধারণত তাপমাত্রা ১০ থেকে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এমন আবহাওয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত ফুটবলারদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং উচ্চ আর্দ্রতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রিনসবোরোতে প্রথম অনুশীলনেই বিপত্তি

২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নর্থ ক্যারোলাইনার গ্রিনসবোরোতে ঘাঁটি গেড়েছে নরওয়ে দল। সেখানে প্রথম অনুশীলনেই গরমে কাহিল হয়ে পড়েন দলের প্রায় সব ফুটবলারই। শুধু নরওয়ে নয়, ইউরোপের অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়দেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন অনেক বিশ্লেষক। কারণ ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ক্লাব বিশ্বকাপেও ফুটবলার কোচ থেকে শুরু করে খেলা দেখতে আসা দর্শক সকলেই গরম নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন।

ক্লাব বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা

জুন-জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত সেই টুর্নামেন্টে তীব্র তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলেছিল। তখন বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের কোচ নিকো কোভাচ প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, এমন গরমে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেওয়া প্রায় অসম্ভব। তিনি বলেন, ম্যাচ শেষে মনে হচ্ছিল যেন সরাসরি একটি সাউনা থেকে বের হয়ে এসেছেন। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন ছিল যে মামেলোদি সানডাউনসের বিপক্ষে ম্যাচে ডর্টমুন্ডের বদলি খেলোয়াড়েরা প্রথমার্ধ লকার রুমে বসেই দেখেছিলেন। যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল গোটা ফুটবল বিশ্বে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়াও বায়ার্ন মিউনিখের কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিও তখন আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জয়ের চেয়ে খেলার গতি ও মান নিয়ে তার বেশি দুশ্চিন্তা ছিল। অতিরিক্ত গরম ম্যাচের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

২০২৬ বিশ্বকাপে কী আশঙ্কা?

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের দলগুলো, যারা বছরের বেশির ভাগ সময় শীতল আবহাওয়ায় খেলে, তারা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারে। তাই বলা যায়, বিশ্বকাপে অনেক দলের জন্য প্রতিপক্ষের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও হবে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।