ইরানের বিশ্বকাপ দলকে ভিসা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে দলটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক পদ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের অভিযোগ উঠেছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণের’ অভিযোগ তুলেছে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোর আগে ফেডারেশনের মহাসচিব হেদায়াত মোমবেনি এবং সহসভাপতি মেহদি মোহাম্মদ নাবিসহ ১৪ জন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী এখনও মার্কিন ভিসা পাননি। ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ ভিসা পেয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অনুশীলন ক্যাম্প স্থানান্তর
এ মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য তিনটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচকে সামনে রেখে শনিবার তুরস্ক থেকে মেক্সিকোয় নিজেদের অনুশীলন ক্যাম্পে রওনা দেয় ইরান ফুটবল দল। এদিকে, যেসব কর্মকর্তা ভিসা পাননি, তাদের ভিসা পাওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকায় তারা মেক্সিকোতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম।
মূলত যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণ জটিল হয়ে উঠেছে। এর আগে ভিসা প্রক্রিয়াজনিত সমস্যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসন থেকে অনুশীলন ঘাঁটি সরিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া সীমান্তবর্তী মেক্সিকোর তিজুয়ানায় স্থানান্তর করে ইরান।
ফেডারেশনের বিবৃতি
ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্যকে ভিসা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে ইরান জাতীয় দলকে সমান প্রতিযোগিতার সুযোগ এবং বৈষম্যহীন পরিবেশে খেলার অধিকার থেকে কার্যত বঞ্চিত করা হয়েছে। বিষয়টি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে উত্থাপন করা হবে বলেও জানায় ফেডারেশন।
কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, আঙ্কারায় অবস্থিত ইরানি দূতাবাস যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকের এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের জবাব দিয়েছে। ওই পোস্টে ব্যারাক ইরান দলের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়েছিলেন। ইরানি দূতাবাসের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, ‘ফিফার নিয়ম লঙ্ঘন এবং স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতাকে নিজেদের প্রশংসা করে আড়াল করা যাবে না। এটি খেলাধুলায় রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক হস্তক্ষেপের সবচেয়ে নিকৃষ্ট উদাহরণ।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য
শুক্রবার এবিসি নিউজকে এক মার্কিন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন, ইরান দলের সব খেলোয়াড় ভিসার অনুমোদন পেয়েছেন। একই সময়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলোয়াড়, কোচ, প্রশিক্ষক ও কিছু সহায়ক কর্মীর জন্য ভিসা ইস্যু করা হয়েছে। তবে আরেক কর্মকর্তা দাবি করেন, দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু আবেদনকারী ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে’ ভিসার আবেদন করায় তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ইরানি প্রতিনিধি দলে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ আছেন কি না, সে বিষয়ে নিবিড় নজরদারি করা হবে। কংগ্রেসের হাউস অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটির এক শুনানিতে রুবিও বলেছেন, ‘আমরা আগেই বলেছি, খেলোয়াড় বা তাদের সহায়ক কর্মীদের নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। তবে আমরা এমন কাউকে প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দেবো না, যাদের খেলাধুলার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং যারা আইআরজিসি বা এ ধরনের কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বিষয়টি আমরা খুব সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং ভবিষ্যতেও একইভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবো।’



