আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞে নামার আগে নিজেদের শেষ আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে ব্রাজিল। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের ম্যাচে মিশরকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে পাঁচবারের বিশ্ব-চ্যাম্পিয়নরা। কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের হয়ে গোল দুটি করেছেন ব্রুনো গ্যুইমারেস ও তরুণ সেনসেশন এন্ড্রিক। অপরদিকে আফ্রিকান পরাশক্তি মিশরের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন মোস্তফা জিকো।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে দলের ঐক্য
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রাজিল শিবিরে মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পোস্টার বয় নেইমার। গত মে মাসের শেষের দিকে পায়ের পেশির ইনজুরিতে পড়া এই মহাতারকার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ও সুস্থতা নিয়ে পুরো দল যখন চিন্তিত, তখন মাঠে তার কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেননি বাকিরা। বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে লড়াই করার জন্য দলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন এবং দলীয় খেলা (টিম কম্বিনেশন) ঝালিয়ে নেওয়ার মূল লক্ষ্যেই আজ মাঠে নেমেছিল সেলেসাওরা।
মিশরের প্রস্তুতি ও বিশ্বকাপ লক্ষ্য
অপরদিকে গত সপ্তাহে প্রীতি ম্যাচে শক্তিশালী রাশিয়াকে হারিয়ে দুর্দান্ত ফর্মে থেকেই ব্রাজিলের মুখোমুখি হয়েছিল মিশর। এবারের বিশ্বকাপে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করা দলটি আগামী ১৫ জুন বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে। গ্রুপ ‘জি’-তে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হলো ইরান ও নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচের প্রথমার্ধের লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে থাকে। খেলার সপ্তম মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পায় সেলেসাওরা। মিশরের রক্ষণভাগের এক মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত এক ফিনিশিংয়ে ব্রাজিলকে প্রথম লিড এনে দেন মিডফিল্ডার ব্রুনো গ্যুইমারেস। তবে ব্রাজিলের এই অগ্রগামিতার আনন্দ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৪ মিনিট। খেলার এগারো মিনিটে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার মার্কিনহোসের এক অবিশ্বাস্য ভুলের সুযোগ লুফে নেন মিশরের মোস্তফা জিকো। তার চোখধাঁধানো এক শটে বল ব্রাজিলের জালে জড়ালে ম্যাচে ১-১ সমতা ফেরায় আফ্রিকান পরাশক্তিরা। এরপর প্রথমার্ধের বাকিটা সময় দুদলই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনও গোল না হওয়ায় সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।
দ্বিতীয়ার্ধে কোচের কৌশলী পরিবর্তন
বিশ্বকপের মূল মঞ্চে নামার আগে স্কোয়াডের সবাইকে দেখে নিতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একঝাঁক পরিবর্তন আনেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। আলিসন, মার্কিনহোস, কাসেমিরো, পাকুয়েতা, ব্রুনো গ্যুইমারেস, ভিনিসিয়ুস ও ইগর থিয়াগোদের মতো তারকাদের একযোগে তুলে নিয়ে তিনি মাঠে নামান ওয়েভারটন, ব্রেমার, লিও পেরেইরা, দানিলো, ফাবিনহো, অ্যালেক্স সান্দ্রো, হেনরিকে, এন্ড্রিক এবং ম্যাথেউস কুনিয়াকে।
এন্ড্রিকের গোলে জয় নিশ্চিত
কোচের এই কৌশলী ও সাহসী পরিবর্তনের ফল মিলতে একদমই সময় লাগেনি। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার ঠিক ছয় মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ম্যাচের ৫২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে আসা একটি বল ধরে ডি-বক্সের ভেতর দুর্দান্ত ও নিখুঁত এক শটে লক্ষ্যভেদ করেন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড এন্ড্রিক। তার এই গোল-ঝলকে ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।
এরপর ম্যাচের বাকিটা সময় সমতায় ফিরতে মিশর মরিয়া হয়ে খেললেও ব্রাজিলের নতুন রক্ষণভাগকে আর ফাঁকি দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তরুণ তুর্কি এন্ড্রিকের ওই গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয় এবং স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আনচেলত্তির দল।



