বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দরজায়। ২০২৬ বিশ্বকাপে উদ্বোধনী ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে এক অদ্ভুত কাণ্ডই ঘটে গেল মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানায়। সেখানকার একটি অস্থায়ী ফুটবল মাঠে ধীরপায়ে হেঁটে গিয়ে এই ম্যাচ নিয়ে অদ্ভুতুড়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার চেষ্টা করেছে দুটি হাতি।
হাতি দুটির সামনে ছিল দুটি পথ। তাদের বেছে নিতে হতো যেকোনো এক দিকের খাবার—একপাশে ছিল মেক্সিকোর পতাকা লাগানো ঘাস, আর অন্যপাশে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার সবুজ পাতা। মুহূর্তের ভাবনায় তারা মেক্সিকোর পতাকার দিকেই হেঁটে যায়। আর তাতেই জোরালো হলো পূর্বাভাস—১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোই জিতবে।
প্রাণীদের দিয়ে ম্যাচের ফল অনুমান করানোর এই আয়োজন ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে অবিস্মরণীয় ‘জ্যোতিষী’ অক্টোপাস ‘পল’-এর স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়।
গুয়াদালাহারা চিড়িয়াখানার কিপার ইভান রেইনোসো এএফপিকে বলেন, ‘মূল ভাবনাটি হলো, বিশ্বকাপের বিভিন্ন ম্যাচ নিয়ে এই প্রাণীরা তাদের মতো করে ভবিষ্যদ্বাণী করবে।’
হাতিদের পর্ব শেষ হতেই হাজির করা হয় ‘চেনচি’ ও ‘ফাউস্তিনা’ নামে দুটি গরিলাকে। তাদের সামনে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় ফুটবলারদের জার্সির আদলে তৈরি দুটি ‘পিনিয়াতা’ (খাবার বা খেলনা ভরা রঙিন পাত্র) একটি স্পেনের, অন্যটি উরুগুয়ের। হঠাৎ করেই একটি গরিলা উরুগুয়ের জার্সির দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। এর অর্থ হলো—২৬ জুন গ্রুপ পর্বে এ দুই দলের মধ্যকার ম্যাচে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ উরুগুয়েই শেষ হাসি হাসবে। এটা দেখে একজন কিপার উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করে ওঠেন, ‘কে জিতেছে তা তো পরিষ্কার দেখাই যাচ্ছে!’
তবে এখানেই শেষ নয়, ‘মুলুক’ নামে এক পুমা (চিতাবাঘসদৃশ বন্য বিড়াল) নিশ্চিত যে বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে দক্ষিণ কোরিয়াই জিতবে। অন্যদিকে ছয়টি জিরাফ কলম্বিয়াকে হারিয়ে গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছে।
রেইনোসো জানান, বিশ্বকাপ ঘিরে দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার পাশাপাশি এই আয়োজন প্রাণীদেরও বেশ চাঙা রাখছে। তাঁর ভাষায়, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রাণীদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশে দারুণ সাহায্য করে। এটি শুধু দর্শকদের চোখের আনন্দই দিচ্ছে না, প্রাণীদের জন্যও ভীষণ উপকারী।’



