সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা
সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা

সব বাধা পেরিয়ে মার্কিন ভিসা পেলেন ইরানি ফুটবলাররা

চলমান যুদ্ধ ও চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও অবশেষে মার্কিন ভিসা পেয়েছেন ইরানের জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা। আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ খেলার মাত্র ১০ দিন আগে এই ভিসা মঞ্জুর করা হয়।

হোয়াইট হাউসের নিশ্চিতকরণ

হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসান্দিদেহ জানিয়েছিলেন, স্কোয়াডের খেলোয়াড়রা তখনও মার্কিন ভিসা পাননি। তবে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা জানান, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতেই এই ভিসা মঞ্জুর করা হয়। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বার্তায় এই খবর নিশ্চিত করে আঙ্কারার মার্কিন দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

কর্মীদের ভিসা এখনও মেলেনি

তবে ইরানের আধাসরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের ভিসা দেওয়া হলেও দলটির কারিগরি ও প্রশাসনিক কর্মীদের কিছু সদস্যের ভিসা এখনও মার্কিন প্রশাসন ইস্যু করেনি। এই বিষয়ে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যকার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এইবারের ফুটবল বিশ্বকাপকে একটি ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত করেছে। ১৯৩০ সালে বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ এমন একটি রাষ্ট্রকে স্বাগত জানাতে যাচ্ছে যার সঙ্গে তারা সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত। ভিসা জটিলতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে দলের অবস্থান যথাসম্ভব সীমিত রাখার উদ্দেশ্যে তেহরান শেষ মুহূর্তে তাদের ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে স্থানান্তরিত করেছে। রোববার (৭ জুন) ভোরে দলটির টিজুয়ানাতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বকাপের সূচি

আগামী ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ইরান তাদের গ্রুপ পর্বের খেলা শুরু করবে। একই গ্রুপে তাদের পরবর্তী প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম এবং মিশর।

মার্কিন কড়াকড়ি

মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ জানান, যুক্তরাষ্ট্র কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বলেনি যে তারা ইরানি দলকে তাদের মাটিতে চায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট করে বলেছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিশ্বকাপের প্রতিনিধি দলে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেবে না ওয়াশিংটন। এই কড়াকড়ির কারণে সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ গত ডিসেম্বরে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অনুমতি পাননি।

শান্তির বার্তা

যুদ্ধে লিপ্ত থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে শান্তির বার্তা হিসেবে দেখছে তেহরান। রাষ্ট্রদূত পাসান্দিদেহ মন্তব্য করেছেন, শত্রুর মাটিতে গিয়েও বিশ্বকাপে ইরানের এই অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে তারা শান্তি চায়। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনা অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে এবং সামরিক হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও উভয় পক্ষই একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।