শিরোপায় চোখ বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের
শিরোপায় চোখ বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের

শিরোপায় চোখ বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারের। বাফুফে মারগাঁও শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রের একদম কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এক মনোরম পাঁচ তারকা হোটেল। চারদিকে সবুজের আবহ। গাছপালার ফাঁক গলে উঁকি মারলেই সমুদ্র। আজ দুপুরে সেখানেই অষ্টম সাফ নারী ফুটবলের জমকালো ট্রফি উন্মোচন করা হলো। আগামীকাল শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি গত দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত।

সংবাদ সম্মেলনে কোচ বাটলার

ট্রফি উন্মোচনের আগে দুদলই কথা বলেছে সংবাদ সম্মেলনে। প্রথমে বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার ও অধিনায়ক মারিয়া মান্দা। তারপর ভারতের কোচ ও অধিনায়ক। সংবাদ সম্মেলনের পর হোটেলের মনোরম সুইমিং পুলে ট্রফি উন্মোচনে দুই দলের কোচ ও অধিনায়ক ছিলেন। তবে আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিলেন মূলত বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারই। ফাইনালে ওঠার স্বস্তি থাকলেও ব্রিটিশ এই কোচের চোখে-মুখে ছিল এক অনমনীয় পেশাদারত্বের ছাপ। ফাইনালের মতো ম্যাচের আগে দলকে মাটিতে পা রেখে রণকৌশল সাজানোর পরামর্শ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ফাইনালে খেলায় নান্দনিকতার চেয়ে দিন শেষে তাঁর কাছে ফলাফলই শেষ কথা। টুর্নামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের চেনা স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে পিটার বাটলার বলেন, ‘আমরা ফাইনালে উঠেছি। হ্যাঁ, এটুকুই। আমার শুধু এটাই বলার আছে যে আমরা ফাইনালে।’

ফলাফলই মূল বিষয়

অনেক বড় বড় দলও যে সব সময় সুন্দর ফুটবল খেলে জিততে পারে না, সেই বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বাটলার বলেন, ‘যখন আপনি প্রতিযোগিতামূলক টুর্নামেন্টে খেলেন, তখন সুন্দর ফুটবল খেলার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো জয় নিশ্চিত করা। অনেক বড় বড় দলও সেমিফাইনাল বা ফাইনালের পথে সব সময় সেরা ফুটবল খেলে না, বরং পরিস্থিতি সামলে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জন করাটাই আসল।’ মাঠের ভেতর ও বাইরের নানা বিতর্ক, প্রতিকূলতা এবং চোটের সমস্যা কাটিয়ে যেভাবে দল ফাইনালে উঠেছে, তার জন্য শিষ্যদের প্রশংসায় ভাসাতে কার্পণ্য করেননি কোচ। তাঁর কথা, ‘মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমাদের অনেক সমস্যা এবং ইনজুরি ছিল, কিন্তু তারপরও আমরা এমন ফলাফল এনেছি যা অনেকে আশা করেনি। মেয়েরা অসাধারণ চারিত্রিক দৃঢ়তা ও মানসিক শক্তির পরিচয় দিয়েছে। আর এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ব্যক্তিকেন্দ্রিক নয়, দলগত সংস্কৃতি

ঋতুপর্ণা চাকমা ম্যাচ উইনার হতে পারেন, তবে তাঁকে আলাদা চোখে দেখেন না বলে জানান বাটলার। বাংলাদেশ দলে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক ‘সুপারস্টার’ সংস্কৃতিতে বিশ্বাসী নন এই মাস্টারমাইন্ড। পুরো দলকে একসুতোয় বাঁধতে চাওয়া বাটলার যোগ করেন, ‘আমি কোনো সুপারস্টার নিয়ে কাজ করি না। আমি দলকে সব সময় বিনয়ী ও নম্র থাকতে বলি এবং ধাপে ধাপে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে শেখাই।’ চলতি টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশ নিয়ে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা গেছে বাংলাদেশ কোচকে। ফাইনালের আগেও নিজের সেই আক্রমণাত্মক ও সাহসী কৌশল ধরে রাখার ইঙ্গিত মিলেছে তাঁর কাছ থেকে, ‘আমরা সেমিফাইনাল ও ফাইনালের কথা মাথায় রেখেই ধাপে ধাপে এগিয়েছি এবং বিভিন্ন দল সাজিয়েছি। আমি প্রয়োজনে দ্রুত খেলোয়াড় পরিবর্তন করতে ভয় পাই না, কারণ আমাদের এমন খেলোয়াড় দরকার, যারা মাঠের খেলায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।’

ভারতের রক্ষণ ভাঙার পরিকল্পনা

ফাইনালের প্রতিপক্ষ ভারত টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তিন ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। তাদের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙার কৌশল নিয়ে পিটার বাটলারের পরিকল্পনা বেশ আক্রমণাত্মক। ভারতীয় রক্ষণকে সমীহ করলেও নিজের রণকৌশলে আস্থা রাখছেন বাংলাদেশ কোচ, ‘এটি ফাইনাল ম্যাচ, আমাদের জন্য এটি “জীবন-মরণ” লড়াই। আমাদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি ভারতের রক্ষণভাগ আমরা ভাঙতে পারব। শুরুতে আমরা কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে।’

নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন

গোয়ার সমুদ্রসৈকতের এই পাঁচ তারকা হোটেলে যখন ট্রফির পাশে দাঁড়িয়ে ফটোসেশন করছিলেন, তখন বাটলারের চোখে ছিল নতুন ইতিহাস লেখার স্বপ্ন। নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে সংবাদ সম্মেলনের শেষ টানলেন এভাবে, ‘আমার সত্যিই মনে হচ্ছে যে আগামীকাল আমাদের সামনে আবারও নতুন ইতিহাস গড়ার একটি বড় সুযোগ রয়েছে। আমি আমার ক্যারিয়ারে অনেক বড় বড় ফাইনাল খেলেছি এবং সেই অভিজ্ঞতা যদি এই মেয়েদের কাজে লাগে, তবে সেটি একটি চমৎকার বিষয় হবে।’