বুধবার দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর গতকাল সান মারিনোতে অনুশীলন করেন হামজা–শমিতরা। বাফুফে ২৫ বছর পর আবারও ইউরোপীয় ঘরানার ফুটবলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ২০০১ সালে সাহারা কাপে যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে খেলার পর আর কোনো ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি লাল–সবুজের প্রতিনিধিদের। ২৫ বছরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটবে আজ। সেরাভেলের সান মারিনো স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোর মুখোমুখি হবেন হামজা–শমিতরা। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
রোমাঞ্চকর ম্যাচের গুরুত্ব
রোমাঞ্চকর এ ম্যাচ শুধুই একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, এতে বাংলাদেশের ইউরোপে খেলার দীর্ঘদিনের অপেক্ষাও ঘুচবে। ২৬ বছর পর ইউরোপের মাটিতে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামবেন তপু–জামালরা। সর্বশেষ ২০০০ সালের জুলাইয়ে লেস্টারে ভারতের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ১–০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন পর ইউরোপে ফেরায় বাড়তি মাত্রা যোগ করছে বাংলাদেশ দলের নতুন রণকৌশল। নতুন কোচ টমাস ডুলির অধীন এটিই হতে যাচ্ছে দলের প্রথম পরীক্ষা। তবে ইউরোপের কোনো প্রতিপক্ষের সঙ্গে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় ম্যাচ। এর আগে যুগোস্লাভিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে একটি করে ম্যাচ খেলে দুটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশ।
সান মারিনোর ব্যতিক্রমী অবস্থান
ফুটবল–দুনিয়ায় ইউরোপ মানেই যেখানে গতির ঝড়, আধুনিক ট্যাকটিক্স আর কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থের ঝলকানি, সেখানে সান মারিনো অনেকটাই ব্যতিক্রম। ফিফা র্যাঙ্কিয়ের একেবারে শেষ (২১১তম) অবস্থানে থাকা এই দলের বর্তমান স্কোয়াডের বেশির ভাগ ফুটবলারই মাঠের বাইরে অন্য কোনো পেশার সঙ্গে জড়িত। দলটির অধিনায়ক মাত্তেও ভিতাইওলি গ্রাফিক ডিজাইন ও প্রিন্টিং কারখানায় কাজ করেন। মাঝমাঠের অন্যতম ভরসা আলেসান্দ্রো গোলিনুচ্চি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে চাকরি করেন এবং তাঁর ভাই–সতীর্থ এনরিকো গোলিনুচ্চি পেশায় আইটি বিশেষজ্ঞ। অন্যদিকে ডিফেন্ডার দান্তে রোসি একটি রিহ্যাবিলিটেশন কেন্দ্রে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবামূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশের সতর্কতা
পেশাদার ফুটবলের বাইরে থাকা এমন প্রতিপক্ষ নিয়েও অবশ্য বেশ সতর্ক বাংলাদেশ দল। ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ বলেছেন, ‘এই দল সম্পর্কে আমরা আগে তেমন জানতাম না। এখন কিছু জানাশোনা হচ্ছে। তারা ইউরোপের মধ্যে বড় বড় দলের বিপক্ষেই বেশি খেলে। এ জন্যই হয়তো তাদের র্যাঙ্কিংয়ে একদম সবার শেষে। খাতা–কলমের হিসাব দেখাটা তাই ঠিক হবে না। আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।’
গোলকিপার সুজন হোসেনের কণ্ঠেও একই কথার প্রতিধ্বনি, ‘র্যাঙ্কিং কোনো বিষয় নয়। অনেক ছোট দলও আছে, যারা অনেক ভালো ফুটবল খেলে। আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।’
প্রবাসী সমর্থকদের ভূমিকা
মাত্র ৩৩ হাজার জনসংখ্যার দেশ সান মারিনোর বিপক্ষেও যে লড়াইটা সহজ হবে না, তা ভালোই বুঝতে পারছেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। তবে এই ম্যাচে লাল-সবুজদের জন্য বড় শক্তির জায়গা হতে পারে গ্যালারিতে থাকা প্রবাসী দর্শকেরা। সুজনের প্রত্যাশা, ‘আশা করি প্রবাসী সমর্থকদের সমর্থন পাবে। তাঁরা ম্যাচটা দেখবেন। চেষ্টা করব তাঁদের হাসিমুখে বাড়ি ফেরাতে।’
নতুন কোচের অধীনে চ্যালেঞ্জ
তবে মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও ফুটবলারদের বড় চ্যালেঞ্জ অন্য জায়গায়। হাভিয়ের কাবরেরার অধ্যায় চুকিয়ে বাংলাদেশ দলের কোচের দায়িত্বে এসেছেন টমাস ডুলি। তাঁর অধীন দলের নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে। দেখার বিষয়, ডুলির ফুটবল–দর্শন, নতুন কৌশল কিংবা পরিকল্পনার সঙ্গে ফুটবলাররা কত দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। দলের সহকারী কোচ হাসান আল মামুনও সেটাই বলেছেন, ‘খেলোয়াড়দের এখন নতুন কোচের টেকনিকের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। এটা একটা ট্রানজিশন সময়। ডুলি সিম্পল ফুটবল খেলতে পছন্দ করেন, যেমন বলের পজেশন ঠিক রেখে একসঙ্গে আক্রমণে যাওয়া। এগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটাই আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের হিসাব
র্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে সান মারিনো থেকে বাংলাদেশ (১৮১তম) অনেকটাই এগিয়ে। ২৫ বছর পর ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে বাংলাদেশ কেমন পারফর্ম করে, তা দেখার জন্যই এখন ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা।



