ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সফল ব্যক্তিত্ব দিদিয়ের দেশম। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে এবং কোচ হিসেবে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়া এই ফরাসি কিংবদন্তি এবারও দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিশ্বকাপ মিশনে। তবে অতীতের সাফল্য নয়, তার মনোযোগ এখন পুরোপুরি বর্তমান ও ভবিষ্যতের দিকে।
বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবছেন দেশম
ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশম বলেন, 'আমি কেবল বর্তমান আর ভবিষ্যৎ নিয়েই ভাবি। আমার স্বভাবটাই এমন। সত্যি বলতে, এছাড়া অন্য কিছু আমার কাছে কোনো গুরুত্ব পায় না। সামনের দিনগুলোতে কী অপেক্ষা করছে, আমি শুধু সেটা নিয়েই ভাবছি।'
বিশ্বকাপের মর্যাদা
বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও সাফল্যে ভরা ক্যারিয়ার দেশমের। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ও বিভিন্ন লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা থাকলেও বিশ্বকাপকে তিনি অন্য যেকোনো অর্জনের চেয়ে বেশি মর্যাদা দেন। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, 'ক্লাব পর্যায়ে চ্যাম্পিয়নস লিগসহ অনেক ট্রফি জেতার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেয়ে আনন্দের আর কিছুই হতে পারে না। এই গৌরব অর্জনের পর আপনার নাম আগের মতোই থাকবে, কিন্তু নামের পাশে চিরদিনের জন্য যুক্ত হয়ে যাবে দুটি শব্দ, ''বিশ্বচ্যাম্পিয়ন''।'
অতীতকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়া
১৯৯৮ সালে অধিনায়ক এবং ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের অভিজ্ঞতা স্মরণীয় হলেও সেগুলোকে পেছনে ফেলেই এগোতে চান দেশম। তার মতে, অতীতের অর্জন যত বড়ই হোক, ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, '১৯৯৮ এবং ২০১৮ সালে যা ঘটেছিল তা আজীবন আমার স্মৃতিতে অমলিন থাকবে, তবে অতীতকে কখনো পরিবর্তন করা যায় না। এখন আমরা সামনে কী করছি, সেটাই আসল কথা। ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আমার দায়িত্বে পরিবর্তন এসেছিল, কিন্তু দুটি গৌরবময় মুহূর্তেই আমি দলের সাথে ছিলাম। দুটি অভিজ্ঞতাই ছিল এককথায় জাদুকরী।'
ফ্রান্সের শিরোপাপ্রত্যাশী অবস্থান
আসন্ন বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে দেখছেন দেশম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, 'আমরা প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিয়েছি কারণ আমাদের কাছে ফল আছে। আমরা ২০১৮ সালে শিরোপা জিতেছি এবং ২০২২ সালে ফাইনাল খেলেছি। এ কারণে দর্শক সমর্থকরা আমাদের থেকে উঁচুমানের পারফরম্যান্সেরই প্রত্যাশা করে। আমরা সেই ১০-১২টি দেশের মধ্যে একটি যারা শিরোপার দাবিদার এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো দল। তবে এই লড়াইয়ে একটি দলই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকে। বাকি ১১টিই হতাশ হয়ে ফেরে।'
২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান
গত আসরের রানার্সআপ ফ্রান্স এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৭ জুন সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরাক ও নরওয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সামনে তাই শুরু থেকেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।



