আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াইয়েই নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারের দিক থেকেও নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। এবার বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল ‘ট্রিওন্ডা’ ব্যবহার করতে হলে প্রতি ম্যাচের আগেই দিতে হবে চার্জ। স্মার্ট প্রযুক্তিনির্ভর এই বলকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে বাড়তি কৌতূহল।
স্মার্টফোনের মতোই স্মার্ট বল
ট্রিওন্ডা আমাদের ব্যবহৃত স্মার্টফোন বা স্মার্টওয়াচের মতোই। উন্নত সেন্সর প্রযুক্তিসম্পন্ন এই বলে যুক্ত করা হয়েছে অত্যাধুনিক ‘কানেক্টেড বল টেকনোলজি’, যা ম্যাচ পরিচালনায় রেফারিদের আরও দ্রুত ও নিখুঁত সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। সেন্সরটি চালিত হবে রিচার্জেবল ব্যাটারিতে। একবার পূর্ণ চার্জে প্রায় ছয় ঘণ্টা চলবে বলটি, যা একটি ম্যাচ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট। তবে ব্যবহারের আগে অন্য সরঞ্জামের মতো এটিকেও চার্জ দিতে হবে।
অত্যাধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ব্যবহারের জন্য তৈরি এই বলে রয়েছে ৫০০ হার্টজ গতির একটি মোশন সেন্সর চিপ। এটি প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলের স্পর্শ, গতি, ঘূর্ণন, দিক পরিবর্তন ও চলাচল রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সংগৃহীত তথ্য সরাসরি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) সিস্টেমে পাঠানো হবে এবং স্টেডিয়ামের ট্র্যাকিং ক্যামেরার তথ্যের সঙ্গে সমন্বয়ও করা হবে। এতে অফসাইড, হ্যান্ডবল, ফাউল কিংবা বল মাঠের বাইরে গেছে কি না—এসব সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত বিশ্লেষণে সুবিধা পাবেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। বিশেষ করে অফসাইডের ক্ষেত্রে বল স্পর্শের সুনির্দিষ্ট মুহূর্ত শনাক্ত করতে পারবে সেন্সরটি।
ব্যালেন্স ও পারফরম্যান্সে প্রভাব নেই
বলে ব্যবহৃত চিপটির ওজন প্রায় ১৪ গ্রাম। এটি এমনভাবে বলের ভেতরে স্থাপন করা হয়েছে যাতে বলের ভারসাম্য বা পারফরম্যান্সে কোনো প্রভাব পড়বে না। এমনকি এর উপস্থিতি টের পাবেন না খেলোয়াড়রাও।
বিশ্বকাপ ভেন্যুগুলোতে থাকা ট্র্যাকিং ক্যামেরার সঙ্গে সমন্বয় করে ম্যাচের ত্রিমাত্রিক মডেল তৈরি করবে এই প্রযুক্তি। এতে গোললাইন প্রযুক্তি, হক-আই ধরনের ট্র্যাকিং এবং কানেক্টেড বল ডেটা একসঙ্গে কাজ করবে।
আগের সংস্করণের চেয়ে উন্নত
এর আগেও ফুটবলে কানেক্টেড বল প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে, যার মধ্যে ২০২২ বিশ্বকাপও রয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সংস্করণটি আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং ম্যাচ পরিচালনা ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত।
তিন আয়োজক দেশের প্রতিচ্ছবি
যেহেতু এবারের বিশ্বকাপের আয়োজক তিন দেশ, তাই ‘ট্রিওন্ডা’ বলের নকশাতেও তিন আয়োজক দেশকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ডিজাইনে। এর রং ও ডিজাইনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ছাপ রয়েছে। আর ‘ট্রিওন্ডা’ নামটি এসেছে তিনটি ঢেউ বা তিন আয়োজক দেশের ধারণা থেকে।



