গরুর হাটের টাকায় চলে রহমতগঞ্জের ফুটবল কার্যক্রম
গরুর হাটের টাকায় চলে রহমতগঞ্জের ফুটবল

পুরান ঢাকার রহমতগঞ্জ ক্লাবের মাঠে গত কয়েকদিন ধরে বন্ধ রয়েছে ফুটবল অনুশীলন। কারণ, মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি। তবে বিষয়টি নতুন নয়—১৯৬৬ সাল থেকেই এই মাঠে কোরবানির গরুর হাট বসে আসছে, আর সেই আয়েই টিকে আছে দেশের শীর্ষ ফুটবল লিগে খেলা ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।

ঐতিহ্যবাহী আয়ের উৎস

মইনুল ইসলাম নামের এক ক্রীড়ানুরাগীর উদ্যোগে তৈরি এই মাঠ ষাটের দশক থেকে রহমতগঞ্জ ক্লাবের নিয়ন্ত্রণে আসে। সেই সময় থেকেই মাঠে গরুর হাট বসার চল শুরু হয়, যা আজও অব্যাহত রয়েছে। ক্লাবের মূল আয়ের বড় অংশই আসে এই হাট থেকে।

প্রতি মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে দল গড়তে রহমতগঞ্জের প্রয়োজন পড়ে দুই থেকে তিন কোটি টাকা। সেই অর্থের একটি বড় অংশ আসে গরুর হাটের ইজারা থেকে। পাশাপাশি মাঠের আশপাশের দোকান ও কারখানার ভাড়া এবং স্থানীয়দের অনুদানও ক্লাবের তহবিলে যুক্ত হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাটের আয়েই ক্লাবের টিকে থাকা

ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ হামিদ সবুজ বলেন, “গরুর হাট ছাড়া রহমতগঞ্জ ক্লাবের অন্য কিছু ভাববার সুযোগ নেই। প্রতিবছর হাট ইজারা দিয়ে আমরা দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা আয় করি। খরচ বাদ দিয়ে দেড় থেকে দুই কোটি টাকা ক্লাবের তহবিলে থাকে। এই টাকা দিয়েই আমরা প্রতি মৌসুমে দল গড়ে থাকি। জিমও হয়েছে।”

এর আগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের মাঠে হাট বসতো। বসতো আরামবাগের বালুর মাঠেও। এখন রহমতগঞ্জ ক্লাবই হাটের ‘ঐতিহ্য’ ধরে রেখেছে।

ফুটবল কার্যক্রমে হাটের ভূমিকা

ক্লাবটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক টিপু সুলতান বলেন, “গরুর হাট আছে বলেই ক্লাবটির ফুটবল কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। হাটের আয় থেকে সবকিছু হচ্ছে। এজন্য দেখবেন আমাদের ফুটবল ক্লাব ঠিকমতো চলছে। খেলোয়াড়রা পারিশ্রমিক পাচ্ছে।”

প্রতি বছর গরুর হাটের কারণে রহমতগঞ্জ মাঠ ক্ষতিগ্রস্তও হয়। ক্লাব ভবনও হাটের কাজে ব্যবহৃত হয়। তখন ফুটবল দলটি বাফুফের টার্ফ কিংবা কমলাপুর মাঠে অনুশীলন করে থাকে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খেলোয়াড়দের অভিমত

এ বিষয়ে ক্লাবের সদস্য ইকবাল উদ্দিন বলেন, “আমরা চেষ্টা করি হাটের কারণে যেন খেলোয়াড়দের কোনও সমস্যা না হয়। তাই বিকল্প হিসেবে অন্য মাঠে অনুশীলন হয়ে থাকে। খেলোয়াড়রাও তা মেনে নিয়েছে।” তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ফুটবলার বলেন, “আসলে এখানে কিছু বলার নেই। নিজের মাঠ থাকতে অন্য জায়গায় অনুশীলন করাটা বিরক্তিকর। তার ওপর গরুর হাটের কারণে! এখন এটা মেনে নিতে হয়। কারণ হাট থেকে আমাদের পারিশ্রমিক আসে। ক্লাবটি পারিশ্রমিক নিয়ে কোনও ঝামেলা করে না। প্রতিবছর পেশাদার লিগে খেলছে। খেলোয়াড়দের কর্মসংস্থান হচ্ছে—এটাই বড় বিষয়।”

ক্লাব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাময়িক অসুবিধা থাকলেও বাস্তবতা হলো—এই হাটই রহমতগঞ্জের টিকে থাকার প্রধান ভরসা। তাই গরুর হাটের আয় থেকেই দেশের ঐতিহ্যবাহী এই ক্লাবের ফুটবল কার্যক্রম চলমান রয়েছে।