২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার জুনিয়র এক আবেগঘন, নাটকীয় ও বিতর্কিত রাত পার করেছেন। মাঠে নামার আগে জাতীয় সঙ্গীতের সময় ক্যামেরার সামনে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি এই সান্তোস তারকা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ফোর্থ অফিশিয়ালের এক নজিরবিহীন ভুলের শিকার হয়ে চরম ক্ষোভে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাকে। মাঠের ভেতরে ও বাইরের এই বিশৃঙ্খলায় প্রতিপক্ষ করিতিবার কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে সান্তোস।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট
ব্রাজিলের শীর্ষ ঘরোয়া লিগ কাম্পেওনাতো ব্রাসিলিরোর ১৬তম রাউন্ডের ম্যাচে মুখোমুখি হয় সান্তোস ও করিতিবো। ইনজুরি কাটিয়ে সম্প্রতি শুরুর একাদশে ফিরেছেন নেইমার। এই ম্যাচটি তার জন্য ছিল ক্যারিয়ারের বিশেষ আবেগের মুহূর্ত, কারণ সোমবার ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। ৫৫ জনের প্রাথমিক দলে থাকলেও চূড়ান্ত স্কোয়াডে জায়গা নিশ্চিতের তীব্র চাপে ছিলেন তিনি।
জাতীয় সঙ্গীতে কান্না
ম্যাচ শুরুর আগে ব্রাজিলের জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় ক্যামেরার সামনে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি নেইমার। তিনি অঝোরে কেঁদে ফেলেন, যা দর্শক ও ধারাভাষ্যকারদের নজর কাড়ে।
বিতর্কিত সাবস্টিটিউশন
দ্বিতীয়ার্ধে ঘটে ম্যাচের মূল নাটকীয়তা। সান্তোসের কোচিং স্টাফ ডিফেন্ডার গনজালো এসকোবারকে (৩১ নম্বর জার্সি) পরিবর্তনের জন্য সাবস্টিটিউশন স্লিপ জমা দেন। কিন্তু ফোর্থ অফিশিয়াল ইলেকট্রনিক বোর্ডে ভুল করে নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি দেখান। সেই সময় নেইমার সামান্য চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। নিজের জার্সি দেখে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে রেফারির অনুমতি ছাড়াই মাঠে ঢুকে পড়েন। ফুটবল নিয়ম ভঙ্গের কারণে ম্যাচ রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখান।
ক্ষোভ ও মাঠত্যাগ
হলুদ কার্ড দেখে আরও উত্তেজিত হয়ে নেইমার সাইডলাইনে গিয়ে ফোর্থ অফিশিয়ালের কাছ থেকে সাবস্টিটিউশন পেপার কেড়ে নেন। তিনি তা রেফারি ও ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করেন, যেখানে স্পষ্ট লেখা ছিল এসকোবারের নাম। কিন্তু অফিশিয়াল বোর্ডে ১০ নম্বর উঠে যাওয়ায় এবং রেফারিদের অনমনীয় সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত নেইমারকে মাঠ ছাড়তে হয়। তার পরিবর্তে রবিনহো জুনিয়র নামেন। মাঠ ছাড়ার সময় রেফারিদের প্রতি তীব্র ক্ষোভ দেখান নেইমার, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।



