স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনার তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামালকে ঘিরে ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে। এ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
ইসরাইলের প্রতিক্রিয়া
ইয়ামালের ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানো নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) প্রতিক্রিয়া জানায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘লামিনে ইয়ামাল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ঘৃণা উসকে দেওয়া বেছে নিয়েছেন; যখন আমাদের সেনারা হামাসের মতো একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিরুদ্ধে লড়ছে। যে সংগঠন গত ৭ অক্টোবর ইহুদি শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংসতা চালিয়েছে।’
কাৎজ আরও লেখেন, ‘যারা এ ধরনের বার্তাকে সমর্থন করেন, তাদের নিজেদের কাছে প্রশ্ন করা উচিত—তারা কি একে মানবিক মনে করেন? এটি কি নৈতিক? ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল ও ইহুদিদের বিরুদ্ধে উসকানির মুখে আমি চুপ থাকব না।’
বার্সেলোনার প্রতি আহ্বান জানিয়ে কাৎজ লেখেন, ‘আমি আশা করি, এফসি বার্সেলোনার মতো একটি বড় ও সম্মানিত ক্লাব তাদের খেলোয়াড়ের এমন বক্তব্য থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নেবে। পাশাপাশি এটিও দ্ব্যর্থহীনভাবে পরিষ্কার করবে যে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বা উসকানি দেওয়ার কোনো জায়গা এখানে নেই।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর কড়া জবাব
কাৎজের এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সানচেজ লেখেন, একটি রাষ্ট্রের পতাকা ওড়ানোকে যারা ‘ঘৃণা উসকানি’ মনে করেন, তারা হয় বিচারবুদ্ধি হারিয়েছেন, নয়তো নিজেদের অবস্থানের কারণে অন্ধ হয়ে গেছেন।
তিনি আরও লেখেন, ইয়ামাল কেবল সেই সংহতির প্রকাশ করেছে, যা লাখো স্প্যানিয়ার্ড ফিলিস্তিনের মানুষের প্রতি অনুভব করেন। ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (১১ মে)। রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় মৌসুমে লা লিগার শিরোপা নিজেদের করে নেয় বার্সেলোনা। এরপর ছাদখোলা বাসে ভক্তদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপনে মাতে বার্সার ফুটবলাররা। সেই উৎসবে ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে যোগ দেন ক্লাবটির তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল। মুহূর্তটির ছবি ও ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
এই ঘটনা এখন শুধু ক্রীড়া জগতেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা কি ঘৃণা উসকানি, নাকি মানবিক অধিকার? এই প্রশ্ন এখন বিশ্ববাসীর সামনে।



