বাদশাহ হত্যা মামলায় আরও এক আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে
বাদশাহ হত্যায় আরও এক আসামির স্বীকারোক্তি, কারাগারে

ঢাকার আদাবর এলাকায় বিশ্বকাপ ফুটবলে ব্রাজিলের জয় উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাহকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলায় আরও এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই আসামির নাম পারভেজ।

আদালতে স্বীকারোক্তি

সোমবার (৬ জুলাই) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদাবর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান আসামিকে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মিজানুর রহমান।

গ্রেফতার ও পূর্বের ঘটনা

রবিবার (৫ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা থেকে পারভেজকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এর আগে শনিবার নিরব, রিপন, সুমন মিয়া, মজনু মিয়া ও শহীদ নামে পাঁচ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে কারাগারে রয়েছে। মিজান নামে আরও এক আসামিও কারাগারে রয়েছে। এর আগে শুক্রবার আবুল বাশার খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার সোয়েব হোসেন সোয়াইব ও মো. কবির নামে দুই জনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

বুধবার রাতে আদাবরে ফুটবল বিশ্বকাপে পছন্দের দলের জয় উদযাপন ঘিরে নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাদশা ও সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে কুপিয়ে জখম করা হয়। রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বাদশাহ। ঘটনার তিন দিন পর শনিবার তার স্ত্রী স্মৃতি আক্তার আদাবর থানায় মামলা দায়ের করেন। আসামি হিসেবে মজনু ও তার তিন ছেলে এবং শহীদের নাম দেওয়া হয়। এছাড়া অচেনা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অভিযোগ

মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ জুন রাত দেড়টার দিকে ফুটবল বিশ্বকাপে ব্রাজিল জয়লাভ করে। ব্রাজিলের জয়ের পর নিরব উচ্চস্বরে বাঁশি বাজাতে থাকে। সেখানে হৃদরোগে আক্রান্ত হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিও বাঁশি বাজায়। নিরব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারতে যায়। স্থানীয় লোকজন নিরবকে নিবৃত করে। হাবিবুরের ভাগ্নে সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি মীমাংসার জন্য মোহাম্মদপুর থানার নবোদয় হাউজিংয়ে তার অফিসে ডাকে আসামিদের। ৩০ জুন দুপুর ১২টার দিকে তিন আসামি সাদ্দামের টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য পথরোধ করে। সাদ্দাম হাবিবুরের ভাগ্নে পরিচয় দিলে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে আঘাত করে। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে। আসামিদের নিয়ে নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজার এলাকায় একটি দোকানে বসে বিচারের কথা হয়।

হামলা ও মৃত্যু

১ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামিরাসহ স্থানীয় লোকজন দোকানে উপস্থিত হন। স্থানীয় লোকজনের সালিস বিষয়ে আসামিদের চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সেখান থেকে তারা কৌশলে বের হয়ে নবোদয় চার রাস্তার মোড়ে ওঁত পেতে থাকে। সালিসে সাদ্দাম ও আবুল বাসার বাদশা উপস্থিত ছিল। স্থানীয় লোকজন সবাইকে দোকান থেকে চলে যেতে বলেন। অন্যান্যদের সঙ্গে সাদ্দাম ও বাদশাহও বের হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে চার রাস্তার মোড়ে আসামিরা সাদ্দাম ও বাদশাহর ওপর হামলা করে। সুইচ গিয়ার ও চাপাতি দিয়ে বাদশাহ ও সাদ্দামকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের মধ্যে মো. আবুল বাসার বাদশার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত সাদ্দাম শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।