আলফাজ আহমেদের চোখে বিশ্বকাপ: চার দলের শিরোপা সমীকরণ
আলফাজ আহমেদের চোখে বিশ্বকাপ: চার দলের লড়াই

বাংলাদেশ ফুটবলের নব্বই দশক ও পরবর্তী সময়ের আলোচিত নামগুলোর একটি আলফাজ আহমেদ। দেশের ঐতিহ্যবাহী দুই ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানের জার্সিতে মাঠ কাঁপিয়েছেন, জাতীয় দলের আক্রমণভাগে দীর্ঘ সময় ছিলেন ভরসার প্রতীক। গোলের সামনে গতিময়তা আর সুযোগ তৈরি করার দক্ষতা তাকে আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। দেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন আক্রমণের মুখ।

মাঠ ছেড়েছেন বহুদিন, কিন্তু ফুটবল তাকে ছাড়েনি। খেলা নিয়ে ভাবেন, দেখেন, বিশ্লেষণ করেন। আর বিশ্বকাপ এলে সেই পুরোনো আবেগ যেন আবার ফিরে আসে তার চোখে।

আলফাজ আহমেদের বিশ্বকাপ বিশ্লেষণ

আমার পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। আর প্রিয় খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। এটা আমি কখনো লুকাই না। মেসিকে আমি শুধু একজন ফুটবলার হিসেবে দেখি না। আমি দেখি একজন মানুষকে, যিনি বছরের পর বছর প্রত্যাশা, সমালোচনা, ব্যর্থতা নিয়ে হেঁটেছেন, কিন্তু থামেননি। শেষ পর্যন্ত নিজের দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আমি মনে করি, বিশ্বকাপ জিততে হলে শুধু একজন বড় খেলোয়াড় থাকলে হয় না। পুরো দলকে একসঙ্গে খেলতে হয়। আর্জেন্টিনার দিকে তাকালে আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে তাদের ঐক্য। গোলবারে এমিলিয়ানো মার্তিনেজ দলকে আত্মবিশ্বাস দেয়। রক্ষণে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো দৃঢ়তা আনে। মাঝমাঠে এনসো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দে পল, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার খেলার নিয়ন্ত্রণ রাখে। সামনে হুলিয়ান আলভারেজ আছে। আর মেসি এমন একজন, যিনি মাঠে থাকলে অন্যরাও নিজেদের সেরা সংস্করণ হয়ে উঠতে চায়। তাই আর্জেন্টিনা অবশ্যই আমার চোখে অন্যতম দাবিদার।

তবে যদি আমাকে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল বলতে হয়, আমি স্পেনকে খুব গুরুত্ব দেব। স্পেন এখন নতুন প্রজন্মের হাতে নিজেদের নতুন করে গড়ে তুলেছে। পেদ্রি, গাভি, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, লামিন ইয়ামালরা শুধু প্রতিভাবান না, খেলাটা বোঝে। তাদের মধ্যে ছন্দ আছে, বল ধরে রাখার ক্ষমতা আছে, আবার মুহূর্তে ম্যাচ বদলে দেওয়ার সামর্থ্যও আছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফ্রান্সকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই। মাইক মেনিয়াঁ, উইলিয়াম সালিবা, জুল কুন্দে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, সামনে কিলিয়ান এমবাপ্পে। বড় টুর্নামেন্টে এই ধরনের ভারসাম্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ইংল্যান্ডকেও আমি এবার আলাদা করে দেখছি। অনেক বছর পর তাদের দলে এমন একটা পরিণত ভাব এসেছে। জুড বেলিংহ্যাম, ফিল ফোডেন, বুকায়ো সাকা, ডেকলান রাইস আর হ্যারি কেইনের মতো খেলোয়াড়দের নিয়ে তারা ভয়ংকর হতে পারে। তবে বিশ্বকাপের নকআউট মানসিক শক্তির জায়গা, ওখানে টিকে থাকতে হবে।

তবে এত বিশ্লেষণের পরও আমি একটা কথা সবসময় বিশ্বাস করি। বিশ্বকাপ কখনো কাগজের হিসাব মেনে চলে না। একটা গোল, একটা সেভ, একটা ভুল সিদ্ধান্ত, কিংবা এক সেকেন্ডের সাহস সব বদলে দিতে পারে। ফেবারিট দল বিদায় নেয়, অচেনা দল ইতিহাস লিখে।

আজ আমি দর্শক। কিন্তু বিশ্বকাপ এলে ভেতরের খেলোয়াড়টা আবার জেগে ওঠে। আমার হৃদয়ে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা রং আছে, মেসির প্রতি ভালোবাসা আছে। কিন্তু একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে আমি দেখছি চারটি বড় শক্তিকে। স্পেনের তারুণ্য, ফ্রান্সের গভীরতা, আর্জেন্টিনার ঐক্য আর ইংল্যান্ডের পরিণত ফুটবল।