বিশ্বকাপের ইতিহাসে ট্রফি নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। ১৯৩০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত বিজয়ীরা যে ট্রফি উঁচিয়ে ধরেছেন, সেটি আসলে 'জুলে রিমে ট্রফি' নয়; শুরুতে এর নাম ছিল 'ভিক্টোরি'। গ্রিক বিজয়ের দেবী নাইকির আদলে তৈরি এই ট্রফি ১৯৪৬ সালে জুলে রিমের নামে নামকরণ করা হয়।
জুলে রিমে ট্রফির উৎপত্তি
১৯০৪ সালে আটটি দেশ নিয়ে ফিফা প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২১ সালে ফরাসি ফুটবল সংগঠক জুলে রিমে সভাপতি হন। তিনি বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেন। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হয়, যার নাম ছিল 'ওয়ার্ল্ড কাপ' বা 'কোপে দো মন্দে'। ট্রফির নাম ছিল 'ভিক্টোরি'।
প্রথম বিশ্বকাপে মোট ১৩টি দল অংশ নেয়। ইউরোপের বেশির ভাগ দেশ দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার ব্যয় বহনে অনাগ্রহী ছিল; জুলে রিমের প্রচেষ্টায় আসর শুরুর দেড় মাস আগে আরও কয়েকটি দেশ রাজি হয়।
নামকরণ ও নাটকীয় ঘটনা
১৯৪৬ সালে ফিফার সদস্যদেশগুলো সিদ্ধান্ত নেয়, বিশ্বকাপের ট্রফির নাম হবে 'জুলে রিমে ট্রফি'। নিয়ম ছিল, কোনো দেশ তিনবার বিশ্বকাপ জিতলে ট্রফিটি স্থায়ীভাবে রাখতে পারবে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার জিতে ট্রফিটি স্থায়ী করে নেয়।
জুলে রিমে ট্রফির ইতিহাসে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইতালির ফুটবল কর্মকর্তারা ট্রফিটি জুতার বাক্সে ভরে মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছিলেন। ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের আগে প্রদর্শনী থেকে ট্রফিটি চুরি যায়; সাত দিন পর 'পিকলস' নামের একটি কুকুর সেটি খুঁজে বের করে। পরে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন একটি হুবহু প্রতিরূপ তৈরি করে। ১৯৮৩ সালে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তর থেকে আসল জুলে রিমে ট্রফি চুরি হয়ে যায়, যা আজও উদ্ধার হয়নি; ধারণা করা হয়, চোরেরা ট্রফিটি গলিয়ে ফেলেছিল।
বর্তমান ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি
ব্রাজিলকে ট্রফি দেওয়ার পর ফিফা নতুন ট্রফি তৈরির উদ্যোগ নেয়। ইতালীয় ডিজাইনার সিলভিও গাজানিকার নকশায় তৈরি হয় 'ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফি'। খাঁটি সোনার তৈরি এই ট্রফির উচ্চতা ৩৬ সেন্টিমিটার ও ওজন প্রায় ৫ কেজি। এর ভিত্তি ম্যালাকাইট দিয়ে তৈরি। ১৯৭৪ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপজয়ী দলের নাম ট্রফির নিচে খোদাই করা হচ্ছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার, কোচিং স্টাফ, ফিফার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রপ্রধান ছাড়া অন্য কেউ ট্রফি হাতে নিতে পারেন না।
লেখক: অনিক সরকার, ফুটবলপ্রেমী



