বিশ্বকাপে গোলের রাজারা: জার্মানি শীর্ষে, ব্রাজিল দ্বিতীয়
বিশ্বকাপে গোলের রাজারা: জার্মানি শীর্ষে, ব্রাজিল দ্বিতীয়

বিশ্বকাপের ইতিহাস আসলে গোলের ইতিহাস। চার বছর পরপর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ফুটবল মঞ্চে যে দল যত বেশি গোল করেছে, সেই দল তত বেশি স্মৃতি, আনন্দ, কান্না আর কিংবদন্তির জন্ম দিয়েছে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়ের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপের বল গড়ানোর পর থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরু পর্যন্ত গোলের এই মহাকাব্যে সবচেয়ে সফল দল এখন জার্মানি।

শীর্ষ পাঁচ দলের গোল পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপের সর্বাধিক ২৩৯ গোল করেছে জার্মানি। জার্মান ফুটবলের আক্রমণ শক্তি তাদের এই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ১৯৫৪ সালের অলৌকিক জয় থেকে শুরু করে ১৯৭৪, ১৯৯০ এবং ২০১৪ প্রতিটি আসরেই জার্মানি গোল করেছে।

জার্মানির ঠিক পেছনেই রয়েছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপে করেছে ২৩৮ গোল। মাত্র এক গোলের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ানদের এই সাফল্যের নায়করা হলেন পেলে, জাইরজিনহো, রোমারিও, রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনিও, নেইমাররা। বিশ্বকাপে সৌন্দর্যের ভাষা যদি কোনো দল লিখে থাকে, তবে সেটি ব্রাজিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তৃতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের গোলসংখ্যা ১৫২। ম্যারাডোনার জাদু, বাতিস্তুতার বজ্রগতি, কেম্পেসের নৈপুণ্য আর লিওনেল মেসির স্বপ্নপূরণের পথ মিলিয়ে আর্জেন্টিনার প্রতিটি গোল যেন আবেগের অন্য নাম।

চতুর্থ স্থানে আছে ফ্রান্স। বিশ্বকাপে ফরাসিদের গোল ১৩৬। প্লাতিনি, জিদান, অঁরি, গ্রিজম্যান থেকে এমবাপ্পে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ফ্রান্স গোলের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে।

পঞ্চম স্থানে রয়েছে ইতালি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির গোলসংখ্যা ১২৮। শক্ত রক্ষণভাগের জন্য বিখ্যাত হলেও প্রয়োজনের মুহূর্তে ইতালির আক্রমণভাগও ইতিহাস গড়েছে।

প্রতিটি সংখ্যা শুধু গোল নয় এগুলো হাজারো গ্যালারির উল্লাস, কোটি মানুষের স্বপ্ন আর ফুটবল ইতিহাসের অমর মুহূর্ত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা

বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকাও রোমাঞ্চকর। দীর্ঘদিন ধরে এই তালিকার শীর্ষে ছিলেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও। পরে তাকে ছাড়িয়ে যান জার্মানির গোলমেশিন মিরোস্লাভ ক্লোসে।

  • মিরোস্লাভ ক্লোসে (জার্মানি) – ১৬ গোল
  • রোনালদো নাজারিও (ব্রাজিল) – ১৫ গোল
  • গার্ড মুলার (জার্মানি) – ১৪ গোল
  • জুস্ত ফঁতেন (ফ্রান্স) – ১৩ গোল
  • লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) – ১৩ গোল
  • পেলে (ব্রাজিল) – ১২ গোল
  • শানদোর কচিস (হাঙ্গেরি) – ১১ গোল
  • ইউর্গেন ক্লিন্সমান (জার্মানি) – ১১ গোল
  • হেলমুট রাহন (জার্মানি) – ১০ গোল
  • গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতা (আর্জেন্টিনা) – ১০ গোল

জার্মানির ২৩৯ গোলের ভেতরে আছে ১৯৫৪ সালের অলৌকিকতা, ব্রাজিলের ২৩৮ গোলের ভেতরে আছে পেলের হাসি, আর্জেন্টিনার ১৫২ গোলের ভেতরে আছে ম্যারাডোনার বিস্ময় আর মেসির স্বপ্নপূরণ। ফ্রান্সের ১৩৬ গোলের মধ্যে আছে জিদানের শিল্প, ইতালির ১২৮ গোলের মধ্যে আছে পাওনা রসির উল্লাস।

পরবর্তী খেলা

গ্রুপ আই: ফ্রান্স – সেনেগাল, রাত ১টা, মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউজার্সি, যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার ১৭ জুন ২০২৬

  • [গ্রুপ আই] ভোর ৪টা: ইরাক – নরওয়ে, জিলেট স্টেডিয়াম, ম্যাসাচুসেটস, যুক্তরাষ্ট্র
  • [গ্রুপ জে] সকাল ৭টা: আর্জেন্টিনা – আলজেরিয়া, অ্যারোহেড স্টেডিয়াম, কানসাস সিটি, যুক্তরাষ্ট্র