বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে পর্তুগাল। তবে ম্যাচের ফলাফলের চেয়েও বেশি আলোচনা তৈরি হয়েছে দলের ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করা, কোনো অন-টার্গেট শট না থাকা কিংবা অ্যাসিস্ট করতে না পারায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই ফরোয়ার্ড।
দলের পক্ষ থেকে পূর্ণ সমর্থন
দলের অধিনায়কের পারফরমেন্সে চারদিকে যখন সমালোচনার ঝড়, এমন কঠিন সময়ে তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াজ। দ্বিতীয় ম্যাচের প্রস্তুতি শুরুর দিন সংবাদ সম্মেলনে এসে রোনালদোর প্রতি দলের পূর্ণ আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। রোনালদোর ওপর গণমাধ্যমের এই অতিরিক্ত সমালোচনাকে স্রেফ ‘বাহ্যিক গুঞ্জন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দিয়াজ। তিনি বলেন, ‘ক্লাব ফুটবল, জাতীয় দল, বিশ্বকাপ কিংবা ইউরোর মতো বড় মঞ্চে এই ধরণের গণমাধ্যমের চাপ সামলাতে ক্রিশ্চিয়ানো দীর্ঘদিন ধরে অভ্যস্ত। এই ধরনের টুর্নামেন্টে প্রতিটা ম্যাচ নিখুঁত হওয়া কখনোই সম্ভব নয়।’
সমালোচনা নিয়ে দিয়াজের বক্তব্য
ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা ডিফেন্ডার আরও যোগ করেন, ‘সমালোচনা কেবল একজন খেলোয়াড়কে উদ্দেশ্য করে হওয়া উচিত নয়। ক্রিশ্চিয়ানো সবসময়ই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে, তবে দলের ভালো-মন্দের সঙ্গে আমরা সবাই জড়িত। এখানে অস্বাভাবিক কিছুই ঘটছে না। আমি দলে আসার পর থেকেই এমনটা দেখে আসছি এবং ভবিষ্যতেও এটা চলতেই থাকবে।’ দলের ভেতরের পরিবেশ নষ্ট করতে পারে এমন যেকোনো সমালোচনা থেকে খেলোয়াড়রা নিজেদের দূরে রাখছেন বলে জানান দিয়াজ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাদের কাছে এই সমালোচনার কোনো মূল্য নেই। এটা স্রেফ কিছু শব্দ বা গুঞ্জন, যা প্রতিযোগিতারই একটা অংশ। কোনো ম্যাচ আশানুরূপ না কাটলে এমনটা হয়েই থাকে। আমরা এসব অপ্রয়োজনীয় সমালোচনা কানে না তুলে নিজেদের খেলায় মনোযোগ দিচ্ছি।’
পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ
উল্লেখ্য, গ্রুপ ‘কে’-তে থাকা পর্তুগাল আগামী ২৩ জুন তাদের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে। এর ঠিক পাঁচ দিন পর, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে প্রথম পর্বের গ্রুপ স্টেজের মিশন শেষ করবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা।



