বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে মিশরকে হারিয়েছে, কিন্তু ম্যাচের রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ম্যাচ শেষে মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তাফা জিকো প্রকাশ্যে রেফারির সমালোচনা করেছেন।
বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো কী কী?
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা মিশরের উইঙ্গার এমাম আশুরকে হাত দিয়ে বাধা দিলেও রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ফাউল দেননি। দ্বিতীয়ার্ধে মিশরের একটি গোল ভিএআরের সহায়তায় বাতিল করা হয়, কিন্তু তাৎক্ষণিক কোনো কারণ জানানো হয়নি। সবচেয়ে বড় বিতর্ক হয় মিশরের অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ-এর পেনাল্টি দাবি নিয়ে। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর চ্যালেঞ্জে সালাহ পড়ে গেলে রিপ্লেতে পায়ের আঙুলে স্পর্শের ইঙ্গিত মিললেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। ভিএআরও মাঠের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে।
সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সমর্থক, সাংবাদিক ও সাবেক ফুটবলার দাবি করেছেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে গেছে। অনেকের মতে, কয়েকটি সিদ্ধান্ত বুঝেশুনেই আর্জেন্টিনার পক্ষে নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতি ম্যাচ কর্মকর্তাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
মাঠের লড়াইয়ের বিবরণ
আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচে ইয়াসের ইব্রাহিম ও মোস্তাফা জিকোর গোলে মিশর ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। এরপর লিওনেল মেসির নৈপুণ্যে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৭৯ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। চার মিনিট পর নিজেই দুর্দান্ত ভলিতে সমতা ফেরান মেসি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের হেডে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
মিশরের ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া
মিশরের কোচ হোসাম হাসান বলেন, 'গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত পেলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।' মোস্তাফা জিকোও রেফারিংয়ের সমালোচনা করে বলেন, 'আমরা পেনাল্টি পাইনি, অথচ স্পষ্ট ফাউল ছিল।' মিশর ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিফার কাছে নালিশ জানানোর কথা বিবেচনা করছে।



