আর্লিং হলান্ডের খাদ্যাভ্যাস: আদিম যুগের সুপারফুড
আধুনিক ফুটবলাররা যেখানে ক্যালরি মেপে দামি সাপ্লিমেন্ট খান, সেখানে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড ভরসা রাখেন আদিম মানবের খাদ্যাভ্যাসে। তাঁর প্রতিদিনের ডায়েটের মূল উপাদান গরুর হৃৎপিণ্ড ও কলিজা। পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় এগুলো সত্যিকারের ‘সুপারফুড’, যা পেশি গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন বি, আয়রন ও খনিজ উপাদানে ঠাসা।
হলান্ড আরও খান ঘাস খেয়ে বড় হওয়া গরুর টমাহক স্টেক, সাওয়ারডো রুটির সঙ্গে ডিম এবং খাঁটি মধু। তাঁর খাবারের তালিকায় প্রক্রিয়াজাত কোনো উপাদানের জায়গা নেই। প্রকৃতির সবচেয়ে খাঁটি খাবারগুলোই তাঁর শক্তির উৎস, যেমন নরওয়েজিয়ান সিফুড কাউন্সিলের ছবিতে দেখা যায়।
ঘুমের প্রটোকল: নাকের টেপ ও নীল আলো ব্লকিং চশমা
হলান্ডের কাছে ঘুম দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তিনি ঘুমকে বৈজ্ঞানিক ‘প্রটোকলে’ পরিণত করেছেন। রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে বিছানায় যাওয়া তাঁর অলিখিত নিয়ম। তবে বিছানায় যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে থেকে তিনি বিশেষ ব্লু-লাইট ব্লকিং চশমা পরেন, যাতে স্মার্টফোন বা টিভির নীল আলো মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা না দেয়।
সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হলো, ঘুমানোর সময় তিনি মুখে সার্জিক্যাল টেপ লাগিয়ে নেন। এর উদ্দেশ্য—মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া বন্ধ করে শুধু নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস ধরে রাখা। নাক দিয়ে শ্বাস নিলে নাইট্রিক অক্সাইডের মাত্রা বাড়ে, যা গভীর ঘুমে সহায়ক। পুরো ঘুমের সময় তাঁর হার্ট রেট ও শরীরের তাপমাত্রা মাপার জন্য হাতের আঙুলে থাকে বিশেষ অরা রিং।
সকালের রুটিন: প্রকৃতি ও লাল আলো
ম্যানচেস্টারের মেঘলা আকাশেও হলান্ডের দিন শুরু হয় প্রকৃতির ছোঁয়া নিয়ে। ঘুম থেকে উঠেই তিনি অন্তত ১০ মিনিট বাইরে হাঁটেন, ভোরের রোদ সরাসরি চোখে লাগান। এতে তাঁর সার্কাডিয়ান রিদম সচল থাকে। সূর্য না থাকলে তিনি রেড লাইট প্যানেলের সামনে দাঁড়ান, যা কোষে শক্তি জোগায়।
পুনরুদ্ধার: বরফ-জল ও সনা
মাঠে ৯০ মিনিট দৌড়ানোর পর শরীর দ্রুত সারিয়ে তোলার জন্য হলান্ড সপ্তাহে চার থেকে পাঁচ দিন বরফ-ঠান্ডা পানির বাথটাবে নামেন এবং সনায় যান। সনা হলো ৭০–১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কাঠের ঘর, যেখানে তিনি কিছু সময় বসে ঘাম ঝরান। তারপর ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করেন। এই পদ্ধতি পেশির ক্লান্তি দূর করে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে।
প্রতিদিন তিনি ২০ মিনিট হিপ ফ্লেক্সর, গ্রোইন ও হ্যামস্ট্রিংয়ের স্ট্রেচিং করেন। এমনকি হালকা অনুশীলনের সময়ও নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার ওপর জোর দেন।
শৃঙ্খলার চূড়ান্ত রূপ
হলান্ডের এই রুটিন দেখে মনে হয়, তিনি যেন কোনো প্রাচীন ভাইকিং যোদ্ধা, যিনি ভুল করে আধুনিক যুগে চলে এসেছেন। প্রক্রিয়াজাত খাবার বা কৃত্রিম আলোর দুনিয়ায় তিনি জীবনযাপন করছেন আদিম ও প্রাকৃতিক নিয়মে। ছোট ছোট এই অভ্যাসের ধারাবাহিকতাই তাঁকে বিশ্বসেরা স্ট্রাইকারে পরিণত করেছে। আপনি তাঁর সব অভ্যাসের সঙ্গে একমত না-ও হতে পারেন, কিন্তু নিজের শরীরকে যত্ন করার এই চরম শৃঙ্খলাই তাঁকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর অ্যাথলেটে পরিণত করেছে। সূত্র: রয়টার্স।



