বিসিবির ক্যাপ্টেন্স কার্ড নিয়ে তীব্র বিতর্ক, তাপস বৈশ্যর কঠোর সমালোচনা
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সম্প্রতি সাবেক অধিনায়কদের সম্মান জানাতে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে 'ক্যাপ্টেন্স কার্ড'। এই কার্ডের মাধ্যমে সাবেক অধিনায়করা খেলা দেখা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সেবা সহ নানাবিধ সুবিধা পাবেন বলে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র অধিনায়কদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখায় তাৎক্ষণিকভাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
তাপস বৈশ্যর ক্ষোভ প্রকাশ
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, "এই যুগের বৈষম্য! আগে থেকেই খেলা দেখতে অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি! আর এখন তো কার্ড!" তিনি আরও যোগ করেন, "একদিন ভিডিও করে সবাইকে বলবো, এই যুগেও কেমন বৈষম্য হয়! অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা!"
খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভেদের প্রশ্ন
তাপস বৈশ্য তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ক্রিকেট একটি দলগত খেলা, যেখানে সবাই মিলে ১১ বা ১৪ জন খেলে। তিনি বলেন, "অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরী আর অন্য সতীর্থরা? খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সবাই জাতীয় খেলোয়াড়!" তিনি সাবেক স্পিনার রফিকের উদাহরণ টেনে বলেন, "রফিক ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় খেলোয়াড় কয়জন অধিনায়ক আছেন…। রফিক ভাই বসবেন সাধারণ গ্যালারিতে আর আনখোরা অধিনায়ক এসি বক্সে…।"
আত্মসম্মান ও প্রতিবাদের আহ্বান
তাপস বৈশ্য আরও বলেন, "কারও যদি আত্মসম্মান থাকে, তাহলে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবে……। যারা কার্ড পেয়েছে, তারা করবে না, কারণ তারা এখন বাংলা সিনেমার চৌধুরী হয়েছে……।" তিনি স্বাস্থ্য বীমার বিষয়টিও উল্লেখ করে বলেন, "অধিনায়কদের হেলথ ইনসুরেন্স দরকার আর অন্য সতীর্থদের! এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জা বোধ করছি……।"
বিসিবির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ
তাপস বৈশ্য তার সমালোচনার শেষ পর্যায়ে বলেন, "এই যুগে এটা চরম বৈষম্য…। আমি চাই, আর যেন কখনোই কোনও সাবেক খেলোয়াড় বোর্ড সভাপতি না হয়… সব দেখা হয়ে গেছে…।" তার এই মন্তব্যে বিসিবির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং এটি ক্রিকেট প্রশাসনে আরও স্বচ্ছতা ও সমতার দাবি জোরালো করেছে।
বিসিবির এই ক্যাপ্টেন্স কার্ড উদ্যোগটি সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। এখন দেখা যাচ্ছে, এই বিষয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসে কিনা অথবা তারা তাদের নীতি পুনর্বিবেচনা করে কিনা। ক্রিকেট প্রেমীদের মধ্যে এই বিতর্কটি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।



