ম্যারাডোনার মৃত্যু রহস্য: আদালতে নতুন করে শুরু হচ্ছে আইনি লড়াই
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু কি সত্যিই স্বাভাবিক ছিল, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে চিকিৎসকদের চরম অবহেলা? ২০২০ সালের নভেম্বরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে মারা যাওয়া এই মহানায়কের প্রস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক আজ আবারও জ্বলন্ত হয়ে উঠেছে আদালতের চার দেয়ালে। সান ইসিদ্রোতে শুরু হওয়া নতুন বিচার প্রক্রিয়ায় ম্যারাডোনার সেবায় নিয়োজিত সাত সদস্যের মেডিকেল টিমের বিরুদ্ধে 'সম্ভাব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যা'র অভিযোগ আনা হয়েছে, যা পুরো ফুটবল বিশ্বকে উত্তেজিত করে তুলেছে।
বিচারক জড়িত কেলেঙ্কারির পর পুনরায় মামলা
গত বছর এই মামলার প্রথম দফার বিচার কাজ চলাকালীন এক নাটকীয় মোড় নেয়, যখন বিচারক জুলিয়েটা মাকিনতাচ ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্রে যুক্ত ছিলেন বলে জানা যায়। নৈতিক স্খলনের দায়ে সেই বিচার বাতিল করা হয় এবং বিচারককে অভিশংসিত হতে হয়। দীর্ঘ এক বছরের বিরতির পর আজ থেকে আবারও শুরু হচ্ছে সেই আইনি লড়াই, যেখানে চিকিৎসক, মনোবিদ ও নার্সসহ মোট সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী এবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, এই স্বাস্থ্যকর্মীরা জানতেন যে তাঁদের কাজে ম্যারাডোনার মৃত্যু হতে পারে, তবুও তাঁরা সেই পথেই হেঁটেছেন। দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁদের ৮ থেকে ২৫ বছরের জেল হতে পারে, যা এই মামলাকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। প্রসিকিউশন পক্ষের দাবি, ম্যারাডোনার সুস্থ হয়ে ওঠার পরিবেশ ছিল চরম অবহেলায় ভরা, এবং এই নতুন বিচারে প্রায় ১২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।
বিবাদী পক্ষের যুক্তি: মৃত্যু ছিল প্রাকৃতিক
বিবাদী পক্ষ বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাঁদের মতে, ম্যারাডোনার দীর্ঘদিনের মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তির কারণে তাঁর মৃত্যু ছিল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, এবং কোনো পরিকল্পিত হত্যার অভিসন্ধি ছিল না। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আগুস্তিনা কোসাশভের আইনজীবী ভাদিম মিশানচুক স্থানীয় এক রেডিওতে বলেন, 'একটা বিষয় নিশ্চিতভাবে বাতিল—ম্যারাডোনাকে পরিকল্পনা করে হত্যার কোনো অভিসন্ধি ছিল না। এই দাবি এখনো যাঁরা করছেন, তাঁরা পরিবার ও আসামি উভয়ের প্রতি নিষ্ঠুর।'
২০২০ সালে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই সপ্তাহ পর বুয়েনস এইরেসের কাছে তিগ্রে'র এক নির্জন বাসভবনে ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়। করোনা মহামারির মধ্যেও আর্জেন্টিনার রাস্তায় লাখো মানুষ নেমে এসেছিল শোক প্রকাশে, যা তাঁর জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়। ফুটবল বিশ্ব আজও অধীর অপেক্ষায় রয়েছে এই জানার জন্য যে, প্রিয় তারকার শেষ দিনগুলোতে আসলে কী ঘটেছিল।
এই বিচার কার্যক্রম আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে, এবং এর ফলাফল শুধু আর্জেন্টিনাই নয়, গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। ম্যারাডোনার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষের দৃঢ় বিশ্বাস, এই বিচার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে এবং কিংবদন্তির মৃত্যুর পেছনের সত্য উন্মোচিত হবে।



