বাফুফের ঘোষণায় ক্লাবগুলোর ক্ষোভ, ফুটবল লিগে নিয়মিততা ও অর্থ সংকট নিয়ে প্রশ্ন
বাফুফের ঘোষণায় ক্লাবগুলোর ক্ষোভ, ফুটবল লিগে সংকট

বাফুফের ঘোষণায় ফুটবল লিগে উত্তেজনা: ক্লাবগুলোর ক্ষোভ ও সংকটের মুখ

বাংলাদেশ ফুটবল লিগের চলতি মৌসুম এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু নতুন মৌসুমের দলবদলের তারিখ ঘোষণা করে বাফুফে উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। গতকাল বিকালে বাফুফে ভবনে প্রফেশনাল লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বর্তমান লিগ ২৩ মে শেষ হবে এবং ১ জুন থেকে খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু হবে। এই ঘোষণা ক্লাবগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে অর্থ সংকট ও পরিকল্পনার অভাব নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে।

লিগের অস্থিরতা ও টুর্নামেন্টের ঘাটতি

১০ দলের রিটার্ন লিগে এখনো ছয়টি করে ম্যাচ বাকি থাকলেও, ফুটবলের বর্ষপঞ্জির অর্ধেকই পূরণ করতে পারেনি কমিটি। ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বছরটা ফুটবলে ভরে উঠবে, কিন্তু বাস্তবে পাঁচটা আসরের মধ্যে ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপ চললেও, আকর্ষণীয় টুর্নামেন্ট যেমন সুপার কাপ ফুটবল এবং স্বাধীনতা দিবস ফুটবল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। দেশে স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস ফুটবলের মতো তাৎপর্যপূর্ণ আসর দুটি আয়োজনে বাফুফে নানা অজুহাত দেখিয়েছে, যা ক্লাবগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

জাতীয় দলের অজুহাত ও ক্লাবগুলোর প্রতিবাদ

জাকির হোসেন চৌধুরী জাতীয় দলের ব্যস্ততাকে দলবদল ও টুর্নামেন্ট আয়োজনে বাধা হিসেবে উল্লেখ করলেও, ক্লাবগুলো এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের মতে, জাতীয় দলের খেলার তারিখগুলো পূর্বনির্ধারিত এবং ফিফার ঘোষণা অনুযায়ী হয়, তাই লিগ কমিটির কর্তারা ঐসব তারিখ দেখেই পরিকল্পনা করতে পারতেন। এখন দিন শেষে জাতীয় দলের দোহাই দেওয়া ক্লাবগুলোর কাছে অগ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে। জাকির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, 'বাফুফের আগামী সভায় আলোচনা হবে, তখন বেশ কিছু বিষয় জানা যাবে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লিগের নিয়মিততা ও দর্শক দূরত্ব

লিগের খেলা এক মাস বন্ধ থাকে, তারপর দুই-তিন ম্যাচ হয়ে আবার এক সপ্তাহ বন্ধ থাকে—এভাবে ফিকশ্চার করা হলে অন্যান্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা যায় না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রিমিয়ার ফুটবল লিগ ও ফেডারেশন কাপ ফুটবল লিগ চললেও, খেলাগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে একজন সাধারণ দর্শক জানতেই পারেন না কবে কখন খেলা হবে বা কার খেলা হবে। খেলা হয়ে যাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, যা দর্শক থেকে লিগের খেলা দূরত্বে নিয়ে গেছে। লিগ কমিটির দর্শক উপভোগের বিষয়ে ভাবনা বা পরিকল্পনা নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ক্লাবগুলোর অর্থ সংকট ও অবহেলা

লিগের খেলা নিয়ে ক্লাবগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করা হয় না বলে অভিযোগ উঠেছে। এখনো চ্যাম্পিয়ন বা রেলিগেশন নির্ধারণ হয়নি, কারা প্রিমিয়ারে খেলবে বা নেমে যাবে তা চূড়ান্ত নয়। একাধিক ক্লাবের দাবি, ফুটবলাররা পুরোনো বেতনই পান না এবং নতুন মৌসুমের টাকা কোথা থেকে জোগাড় করবে তা নিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। ঢাকার বাইরে একটি ম্যাচ খেলে আসতে পকেট খালি হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। নতুন সরকারের সময় মোহামেডান গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করলেও তারা পেরে উঠছে না, এমনকি পরিচালক জাকির হোসেন চৌধুরীও বিষয়টি জানেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্পন্সরশিপ ও ক্লাবগুলোর প্রতিক্রিয়া

ক্লাবগুলোর দাবি, লিগের স্পন্সর পাওয়া গেছে কিন্তু তারা টাকা পায়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ১ জুন দলবদল শুরু হওয়ার কথা শুনে রহমতগঞ্জ ক্লাবের সভাপতি টিপু সুলতান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, 'আমরা তো জ্বইলা পুইড়া শেষ হইয়া গেলাম, টাকা পামু কই?' তিনি আরও জানিয়েছেন, ক্লাবগুলোর সঙ্গে কথা না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা ফুটবল চালানোকে কঠিন করে তুলছে। ব্রাদার্সের ফুটবল ম্যানেজার আমের খানও একই প্রশ্ন তুলেছেন, 'কবে মিটিং হইলো, দলবদল হবে আমরা জানবো না।'

সর্বোপরি, বাংলাদেশ ফুটবল লিগে নিয়মিততা, অর্থ সংকট ও ক্লাবগুলোর অংশগ্রহণের অভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, যা ফুটবল উন্নয়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।