নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি, ১২ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাস গড়বে
নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি, ১২ দল অংশ নেবে

নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে রেকর্ড প্রাইজমানি, ১২ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাস গড়বে

আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ডের বার্মিংহামের এজবাস্টন মাঠে পর্দা উঠবে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের। টুর্নামেন্ট শুরু হতে আর মাত্র ৬০ দিন বাকি থাকতে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে বড় একটি সুখবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠিতব্য এই বিশ্বকাপের জন্য রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানি ঘোষণা করেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

প্রাইজমানি বৃদ্ধি ও নতুন রেকর্ড

আইসিসি আজ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের সর্বশেষ আসরের তুলনায় এবারের নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এবারের মোট প্রাইজমানি দাঁড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৫ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০৫ কোটি টাকার সমান। এই ঘোষণা নারী ক্রিকেটের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়াও এবারের বিশ্বকাপে দলের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি দেশ অংশ নেবে নারী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে, যা টুর্নামেন্টের মর্যাদা ও প্রতিযোগিতামূলক মানকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাইজমানি বণ্টনের বিস্তারিত

আইসিসি প্রাইজমানি বণ্টনের একটি স্পষ্ট কাঠামো প্রকাশ করেছে, যাতে প্রতিটি দল তাদের সাফল্যের ভিত্তিতে পুরস্কৃত হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • চ্যাম্পিয়ন দল: ২৩ লাখ ৪০ হাজার ডলার পাবে।
  • রানার্সআপ দল: ১১ লাখ ৭০ হাজার ডলার প্রাপ্তির সুযোগ পাবে।
  • সেমিফাইনালিস্ট দল: প্রতিটি দল ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার পাবে।
  • গ্রুপ পর্বে জয়: প্রতিটি জয়ের জন্য মিলবে ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার।
  • অংশগ্রহণকারী সব দল: প্রতিটি দল অন্তত ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার পাবে, যা তাদের অংশগ্রহণকে মূল্যায়ন করে।

আইসিসি প্রধান নির্বাহীর প্রতিক্রিয়া

আইসিসির প্রধান নির্বাহী সংযোগ গুপ্ত এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘নারী ক্রিকেটের দ্রুত বিকাশ হচ্ছে। ১২ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন এবং রেকর্ড পুরস্কারের অর্থ আমাদের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন। নারী ক্রিকেটারদের প্রভাব এখন বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে স্পষ্ট।’ তাঁর মতে, এই টুর্নামেন্ট মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলবে, যা নারী ক্রীড়াকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।

ট্রফি ট্যুরের সূচনা

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে আজ থেকেই ‘আইসিসি ট্রফি ট্যুর’ এর মাধ্যমে। লন্ডনের ঐতিহাসিক লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ড থেকে এই যাত্রা শুরু হয়েছে। লর্ডসের বিখ্যাত প্যাভিলিয়নের ওপর ট্রফির অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এক জাদুকরি প্রজেকশনের মাধ্যমে, যা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।

এরপর ট্রফিটি পাড়ি জমাবে নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডে। মে মাসজুড়ে এটি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন আয়োজক শহর—লিডস, ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, ব্রিস্টল ও সাউদাম্পটন ঘুরে বেড়াবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা ট্রফির এই সফরের খুঁটিনাটি দেখতে পারবেন ইনস্টাগ্রামের @icctrophytour হ্যান্ডলে, যা টুর্নামেন্টের আগমনী বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্বকাপের প্রাথমিক পরিকল্পনা

আগামী ১২ জুন বার্মিংহামের এজবাস্টনে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। ‘এ’ গ্রুপে থাকা বাংলাদেশ দল খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে, যা একটি চ্যালেঞ্জিং গ্রুপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই বিশ্বকাপ নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে, যেখানে রেকর্ড প্রাইজমানি ও বৃদ্ধিপ্রাপ্ত দলের সংখ্যা টুর্নামেন্টের গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তা বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।