বিশ্বকাপে নেইমারের সম্ভাবনা: কোচ আনচেলত্তির আশাবাদী বার্তা
বিশ্বকাপের আর বেশি দিন বাকি নেই, কিন্তু ব্রাজিলের তারকা নেইমারের দলে থাকা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি এমন একটি সংবাদ দিয়েছেন, যা ভক্তদের আশান্বিত করতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, তার ২৬ সদস্যের দলে নেইমারের থাকার সম্ভাবনা অবশ্যই আছে, তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় শর্তপূরণে দুই মাস সময় পাচ্ছেন এই খেলোয়াড়।
ফিটনেসের চ্যালেঞ্জ এবং কোচের অবস্থান
আনচেলত্তি আগেই উল্লেখ করেছেন, নেইমারকে দলে রাখা নিয়ে তার কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু দলে স্থান পেতে হলে নেইমারের প্রয়োজনীয় ফিটনেস শতভাগ থাকতে হবে। গত মাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে তার অনুপস্থিতি এই ফিটনেস ইস্যুতেই ঘটেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর ইনজুরির পর থেকে ব্রাজিলের সর্বোচ্চ স্কোরার আর মাঠে নামেননি, এবং সান্তোসে ফেরার পর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
বোস্টনে ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের ২-১ গোলে পরাজয়ের পর গ্যালারিতে নেইমারের নামে স্লোগান ওঠে, কিন্তু কোচ আনচেলত্তি তখন বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। তার মতে, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত মাঠে নামা খেলোয়াড়দেরই। তবে এখন অবস্থান কিছুটা বদলেছে এই ইতালিয়ান কোচের। উত্তর আমেরিকা ও মেক্সিকোয় ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল সাজানোর ভাবনায় নেইমার এখনও তার ভাবনায় আছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আনচেলত্তির সাক্ষাৎকার এবং নেইমারের ভবিষ্যৎ
ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেপিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেছেন, ‘বর্তমানে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এবং আমি তাকে পর্যবেক্ষণে রেখেছি। সামনে তার হাতে এখনও দুই মাস সময় আছে নিজেকে প্রমাণ করার, সে পরবর্তী বিশ্বকাপে খেলার মতো যোগ্যতা রাখে।’ হাঁটুর চোট কাটিয়ে নেইমারের ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘চোটের পর সে ভালোভাবেই ফিরেছে, গোলও করছে। তাকে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে এবং ফিটনেস আরও উন্নত করতে হবে। সে সঠিক পথেই আছে।’
এই মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, আনচেলত্তি নেইমারের প্রতি আস্থা রাখছেন, কিন্তু বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হলে তাকে শারীরিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত হতে হবে। ব্রাজিল দলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, কারণ নেইমারের উপস্থিতি দলের শক্তি বাড়াতে পারে। ভক্তরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন, এই দুই মাসে নেইমার কিভাবে নিজেকে প্রমাণ করেন এবং বিশ্বকাপের মাঠে তার প্রত্যাবর্তন ঘটে কিনা।



