ক্রিকেট মাঠে রান-আউট বিতর্ক, ছুরিকাঘাতে নিহত তরুণ ক্রিকেটার
খেলার মাঠে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে মতভেদ একটি সাধারণ ঘটনা, কিন্তু সেই বিবাদ কখনো কখনো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সম্প্রতি ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে একটি স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচে রান-আউট কল নিয়ে শুরু হওয়া তর্কের জেরে ছুরিকাঘাতে ২১ বছর বয়সী এক তরুণ ক্রিকেটার নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আম্পায়ারসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন, যা ক্রীড়া জগতে একটি মর্মান্তিক অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
গত রোববার সন্ধ্যায় বিশাখাপত্তনমের আরিভলোয়া থানা এলাকার পেদাগাদিলিতে এই ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিনায়ক নগর, চাকালি পেটা এবং পেদাগাদিলি—এই তিনটি দলের মধ্যে একটি ২০ ওভারের সিরিজ চলছিল। বিনায়ক নগর ও চাকালি পেটার মধ্যকার ম্যাচে ব্যাটিং করছিলেন ডি অজিত। খেলার এক পর্যায়ে নন-স্ট্রাইকার এন্ডে একটি রান-আউট কল নিয়ে প্রতিপক্ষ দলের সঙ্গে অজিতের প্রচণ্ড কথা কাটাকাটি শুরু হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে আসেন পেদাগাদিলি দলের সদস্য এবং ওই ম্যাচের আম্পায়ার বি চিরঞ্জীবী। তিনি খেলোয়াড়দের শান্ত করেন এবং বিবাদ মিটিয়ে খেলা পুনরায় শুরু করেন। ম্যাচ শেষে উভয় পক্ষ শান্তভাবেই মাঠ ছাড়ে, কিন্তু ঘটনার পরবর্তী ঘটনাগুলো আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
ম্যাচ পরবর্তী হামলা
ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর বিনায়ক নগরের বাসিন্দা কান্ত কিশোর, যিনি 'বক্সার' নামে পরিচিত এবং মাঠে দর্শক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তিনি হঠাৎ অজিত ও আম্পায়ার চিরঞ্জীবীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাদের সরিয়ে দিলেও কিশোরের ক্ষোভ কমেনি। পেশায় ইভেন্ট ফটোগ্রাফার কিশোর পরে আলোচনার দোহাই দিয়ে অজিত ও চিরঞ্জীবীকে পেদাগাদিলি জংশনে ডেকে পাঠান।
সেখানে পৌঁছানো মাত্রই মদ্যপ অবস্থায় থাকা কিশোর তাদের গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি পকেট থেকে ছুরি বের করে অজিতের বুকে আঘাত করেন। তাকে বাঁচাতে গিয়ে আম্পায়ার চিরঞ্জীবী এবং পথচারীসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অজিতকে দ্রুত অ্যাপোলো হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা
অভিযুক্ত কিশোর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। নিহতের বাবা ডি আপ্পালা রাজুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং ঘাতক কিশোরকে ধরার জন্য চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। এই ঘটনা স্থানীয় ক্রীড়া সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং খেলার মাঠে সহিংসতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলায়ও কীভাবে সহিংসতা প্রবেশ করতে পারে, তা ভাবিয়ে তুলেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে এখন মাঠে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।



