ফিটনেস ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রমে ক্লান্ত ক্রিকেটাররা
অনুশীলনের ফাঁকে ড্রেসিংরুম থেকে একাডেমি ভবনের দিকে যাচ্ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। কাছে গিয়ে সাক্ষাৎকারের অনুরোধ জানাতেই তিনি বলে উঠলেন, 'কথা বলব কী ভাই, দাঁড়িয়ে থাকার শক্তিই তো পাই না!' মিরাজের এই কথাটি সাক্ষাৎকার না দেওয়ার অজুহাত নয়, বরং তাঁর চোখে-মুখে ক্লান্তির ছাপ ছিল স্পষ্ট। ব্যস্ত আন্তর্জাতিক সূচি সামনে রেখে সম্প্রতি শেষ হওয়া ফিটনেস ক্যাম্পে ক্রিকেটারদের একটু কঠিন সময় পার করতে হয়েছে।
ফিটনেস ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য
এবারের ফিটনেস ক্যাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল ক্রিকেটারদের অতিরিক্ত পরিশ্রম করানো। জাতীয় দলের ফিটনেস ট্রেনার ইফতেখারুল ইসলামের ভাষায়, তাদের 'ওভারলোড করা' হয়েছে। সহজ কথায়, বাড়তি পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা করা হয়েছে এই ক্যাম্পে।
ক্রিকেটারদের ফিটনেস ফিরিয়ে আনা এবং মাঝের বিরতিতে বেড়ে যাওয়া মেদ কমানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল। যারা বাড়তি কাজগুলো করতে পারেননি, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। যেমন, স্পোর্টস মাস্ক পরে কোমরে রশি বেঁধে পেছনে বাড়তি ওজন নিয়ে জোরে জোরে হাঁটতে হয়েছে। চোট বা সতর্কতার কারণে নাজমুল হোসেন, তানজিম হাসানদের মতো খেলোয়াড়দের এই কাজ করতে দেখা গেছে। স্পোর্টস মাস্কের বিশেষ গুরুত্ব হলো, এটি পরলে নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়, যা হৃদযন্ত্রের সক্ষমতা বাড়ায়।
ক্যাম্পের সময়সীমা ও পরিকল্পনা
প্রাথমিকভাবে ফিটনেস ক্যাম্পটি ১০ দিনের হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সামনে সিরিজ থাকায় ফিটনেসের চাপ যেন বেশি না হয়, সে কারণে তা এক সপ্তাহে কমিয়ে আনা হয়েছে। শনিবার থেকে মিরপুরে শুরু হবে স্কিল ক্যাম্প। শুরুতে সাদা ও লাল বলের ক্রিকেটারদের সবাই থাকবেন, স্কোয়াড ঘোষণার পর ধীরে ধীরে ক্রিকেটারদের সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।
সামনে আন্তর্জাতিক সূচি
১৭ মার্চ ওয়ানডে দিয়ে শুরু হবে নিউজিল্যান্ড সিরিজ, পরে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজও অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজের জন্য নিউজিল্যান্ড অনেকটা দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলতে আসছে, তবে বাংলাদেশ নিজেদের সেরা দল নিয়েই মাঠে নামতে চায়। জাতীয় দলের নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার বলেছেন, 'নিউজিল্যান্ড কেমন দল পাঠিয়েছে, তারা কেমন খেলবে, এটা নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা আমাদের সেরা দলটাকেই খেলাতে চাই।'
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ শেষ হওয়ার পরদিনই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান। এই সংস্করণের ক্রিকেটাররাও গত এক সপ্তাহ ফিটনেস ক্যাম্পের অংশ ছিলেন।
ফিটনেস ক্যাম্পে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ক্রিকেটাররা এখন নিজেদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত করছেন, সামনের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য দলকে শক্তিশালী করতে এই প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।



