পিএসএলে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, সিকান্দার রাজা ও শাহিন আফ্রিদির বিরুদ্ধে পুলিশের চিঠি
পিএসএলে নিরাপত্তা লঙ্ঘন, সিকান্দার রাজা-শাহিন আফ্রিদির বিরুদ্ধে অভিযোগ

পিএসএলে নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ, সিকান্দার রাজা ও শাহিন আফ্রিদির বিরুদ্ধে পুলিশের চিঠি

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) একটি গুরুতর নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে এসেছে। লাহোর কালান্দার্সের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ও পেসার শাহিন আফ্রিদির বিরুদ্ধে হোটেল কক্ষে অননুমোদিত অতিথি প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। পাঞ্জাব পুলিশ পিএসএল প্রধান নির্বাহী সালমান নাসিরের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এই অভিযোগের কথা জানিয়েছে।

অভিযোগের বিবরণ ও পুলিশের পদক্ষেপ

গত শনিবার রাতে সিকান্দার রাজার হোটেল কক্ষে অনুমতি ছাড়াই কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রবেশ করানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, নিরাপত্তাকর্মীদের আপত্তি উপেক্ষা করে প্রভাব খাটিয়ে অতিথিদের ভেতরে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় জিম্বাবুয়ের অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ও পাকিস্তানের পেসার শাহিন আফ্রিদিকে দায়ী করা হয়েছে।

পুলিশের চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সিইও সালমান নাসিরের অনুমতি ছাড়াই এই কাজটি করা হয়েছে। পুলিশ ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পিএসএল কর্তৃপক্ষকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সিকান্দার রাজার প্রতিক্রিয়া ও দায় স্বীকার

সিকান্দার রাজা এই ঘটনায় শাহিন আফ্রিদির কোনো দায় নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি তাঁর ১৯ বছরের পরিচিত ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন এবং শাহিন কেবল তাঁকে এই কাজে সহায়তা করেছেন। রাজা পুলিশের অভিযোগের বিরোধিতা করে বলেন, ‘শাহিন কাউকে জোরজবরদস্তিমূলক কিছু করেনি। আমার পরিবার ও বন্ধুরা এসেছিল। আমার অনুরোধেই সে তাদের কক্ষে আসতে সাহায্য করেছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজা আরও যোগ করেন, ‘অতিথিদের কক্ষে আসা নিয়ে যদি কোনো নিয়ম থাকে, তবে সেটা আমার জানা ছিল না, শাহিনেরও অজানা ছিল। দোষ আমার, শাহিনের নয়। আমার অনুরোধেই সে নিচে যায়। কারণ, তারা আমার পরিবার ও বন্ধু; আমি তাদের সঙ্গে বিজনেস সেন্টারে দেখা করতে চাইনি। আমরা প্রায় ৪০ মিনিট একসঙ্গে ওপরে ছিলাম।’

ঘটনার সময়সীমা নিয়ে বিভ্রান্তি ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

রাজা ৪০ মিনিট সময় কাটানোর কথা বললেও পুলিশের চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, তাঁরা সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা ছিলেন। ইএসপিএনক্রিকইনফো সালমান নাসিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পিসিবির মিডিয়াপ্রধান উমর ফারুক গত রোববার ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, ‘লাহোর কালান্দার্সের দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি নিয়ে আমরা পিএসএল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।’

লাহোর কালান্দার্স সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও জোরপূর্বক কাউকে ভেতরে ঢোকানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাজা বলেন, ‘যাদের কথা বলা হচ্ছে, তাদের সঙ্গে আমার ১৯ বছরের বন্ধুত্ব। আমার স্ত্রী ও সন্তানেরাও আমার সঙ্গে দেখা করতে আসবে। দয়া করে ভুলে যাবেন না যে আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এখানেই থাকে এবং সারা বছর তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয় না।’

সামাজিক মাধ্যমে চিঠি ফাঁস ও বর্তমান অবস্থা

গত রোববার লাহোর কালান্দার্স, শাহিন ও রাজার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বিধিভঙ্গের অভিযোগসংবলিত পুলিশের সেই চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁস হয়। এখন পর্যন্ত পিসিবি বা পিএসএলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

রাজা শেষ পর্যন্ত বলেন, ‘পুরো সিদ্ধান্তটি আমার ছিল, শাহিনের নয়। নিশ্চিত করে বলছি, সে কাউকে জোর করে নিয়ে আসেনি, কারণ আমি নিজেও তখন লিফটে তার সঙ্গেই ছিলাম। আমরা পিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে অনুরোধ করেছিলাম, এরপর কী হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখব।’